শিরোনাম
অন্তর্বাসের দাম ৫ কোটি ডলার, আলোচনায় কাইলি জেনার ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৩৬৬ ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন, একই মাঠের ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ ও মন্দির ৬ দিন বন্ধ থাকবে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন কার্যক্রম নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে শরীয়তপুরের ৫ ব্যবসায়ী নিহত পোষা বিড়ালকে পিটিয়ে হত্যা, বিচার চেয়ে মৃতদেহ খাঁচায় নিয়ে থানায় মালিক সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষনতুন চাকরিতে যোগ দিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না আনোয়ারের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, আগুনের পাশেই মদপানে মত্ত দম্পতি
দীপ্ত নিউজ
বরিশাল বিভাগ

সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন, একই মাঠের ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ ও মন্দির

দীপ্ত নিউজ ডেস্ক
দীপ্ত নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ:
সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন, একই মাঠের ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ ও মন্দির

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরিশাল জেলার ৫৯০ টি পূজা মণ্ডপে এ বছরও অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে সারা দেশের মতো বরিশালেও মোতায়েন করা হয়েছে আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তবে শারদীয় এই দুর্গোৎসবে সম্প্রীতির এক অনন্য বন্ধন প্রকাশ করছে একই মাঠে মসজিদ ও মন্দিরের অবস্থান। একই মাঠের একপাশে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। অন্যপাশে পূজা অর্চনা করছেন পূজারিরা। এই প্রার্থনার সুরে মানবতা ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনা গ্রামে অবস্থিত শেনেরহাট বাজার জামে মসজিদ ও সার্বজনীন দুর্গা মন্দির। দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, একই মাঠের ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ ও মন্দিরের অবস্থান। প্রতিবছরের মতো এবারও জাঁকজমকপূর্ণভাবে ওই স্থানে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এই এলাকায় দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। বরং স্থানীয় মুসলিম নর–নারীরা প্রতিবেশীদের পূজা উদযাপনে সহযোগিতা করে থাকেন।

স্থানীয় প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৫৪ বছর ধরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখে চলেছে। দুর্গাপূজার সময় মন্দির থেকে ভেসে আসে ঢাকঢোল, উলু ও শঙ্খধ্বনি। রাতভর চলে আরতি ও পূজা অর্চনা। তবে মসজিদে আজান শুরু হলে নীরবতা বজায় রাখেন পূজারি ও ভক্তরা।

নামাজ শেষ হলে শুরু হয় আরতি

মন্দিরের পূজারি স্বপন ভট্টাচার্য বাসসকে বলেন, মসজিদে আজান শুরু হলেই আমরা পুরো অনুষ্ঠানের বিরতি দেই। নামাজ শেষে আবার আমাদের কার্যক্রম শুরু করি। আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এখানে কেউ কারো জন্য বিরক্তির কারণ হননি কখনোই। বরং দুই ধর্মের অনুসারীরা আগলে রেখেছেন তাদের এই পবিত্র উপাসনালয়।

স্থানীয় সমাজসেবক মাকসুদ মৃধা বলেন, এখানে সবাই মিলেমিশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করছেন। আমাদের পূর্বপুরুষেরাও এমনটিই করেছেন। ছোটোবেলা থেকেই আমরা পূজা দেখতে মণ্ডপে যাই। আবার ঈদে আমাদের অনুষ্ঠানে আসেন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিবেশীরা।

মন্দির কমিটির সভাপতি শংকর চন্দ্র দাস বলেন, ১৯৭২ সালে আধুনা শেনের বাড়িতে সার্বজনীন দুর্গা মন্দির স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে একই মাঠে আধুনা জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মন্দিরের মাত্র দশ ফুট দূরত্বে অবস্থিত জামে মসজিদে ইসলাম ধর্মের মানুষ তাদের ধর্ম পালন করে আসছেন। আমরা মন্দিরে আমাদের ধর্ম পালন করে আসছি। মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি হলেও আমাদের কোনো সমস্যা হয় না।

তিনি বলেন, ৫৪ বছর ধরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ এভাবেই ধরে রেখেছে তাদের সম্প্রীতির বন্ধন। এই বন্ধন স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য গড়ে তুলেছে।

আধুনা শেন জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা কামরুল ইসলাম বলেন, এখানে ধর্ম নিয়ে কারো মধ্যে কোনো বাড়াবাড়ি নেই। মসজিদে আজান হলেই হিন্দু ভাইয়েরা ঢাক–ঢোলের আওয়াজ বন্ধ রাখেন।

আজান ও নামাজ শেষ হলেই আবার তাদের কার্যক্রম শুরু করেন। বছরের পর বছর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে এখানে যে যার ধর্ম পালন করেন। কেউ কারো প্রতি বিন্দুমাত্র বিরক্তির কারণ হননি কখনো।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনা গ্রামের একইস্থানে মসজিদ ও মন্দির দীর্ঘ বছর ধরে ওই এলাকায় সম্প্রীতির আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। যা এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।

তিনি বলেন, আমরা এ রকম সমাজ ব্যবস্থাই চাই, যেখানে সব ধর্ম–বর্ণের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করবে।

এই সংবাদে মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ আছে।