জানুয়ারি মাসে দেশে ৫৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত ও ১ হাজার ২০৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় পতিত ৮২৯টি যানবাহনের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল (২৮.৪৬ শতাংশ)। এরপর রয়েছে ট্রাক–পিকআপ ও লরি (২৩.৬৪ শতাংশ), বাস (১৪.৩৫ শতাংশ), ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক (১৩.৬৩ শতাংশ) এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা (৫.৫৪ শতাংশ)।
বিভাগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৩ জন নিহত ও ৩২৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে সর্বনিম্ন ২৯টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় ১২৭ জন চালক, ৮৯ জন পথচারী, ৫৪ জন নারী, ৪৮ জন শিশু, ৫৭ জন শিক্ষার্থী, ২১ জন পরিবহন শ্রমিক এবং ৮ জন শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫ সদস্য এবং ৪ জন চিকিৎসক রয়েছেন।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৮.৩৬ শতাংশ ক্ষেত্রে গাড়িচাপা, ২৮.৬২ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং ১৬.৮৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ৪২.৫৭ শতাংশ দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ২৭.৮৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২৪.০৯ শতাংশ ফিডার সড়কে ঘটেছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে রেলপথে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত, ৬ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন।
ফলে সড়ক, রেল ও নৌ—এই তিন পথে মোট ৫৯৭টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫৮৬ জনের এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৩৮ জন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে সড়ক পরিবহন খাতে নীতি ও কৌশলগত দুর্বলতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতি এবং মহাসড়কে ছোট যানবাহনের (ইজিবাইক, মোটরসাইকেল) অবাধ চলাচলকে দায়ী করেছে।
এসএ