কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে এবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঈদুল ফিতরের বৃহত্তম জামাত। এবারের জামাতটি হবে ১৯৯তম। আগামী ঈদের দিন সকাল ১০টায় শুরু হবে এই জামাত, যেখানে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি, জেলা পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে জামাত আয়োজনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। মাঠে দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়াল রং করা, ওজুখানা ও টয়লেট সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত কাজ প্রায় শেষ। মুসল্লিদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বৃষ্টি হলে যেন দুর্ভোগ কম হয়, সে বিষয়েও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মাঠকে আরও দৃষ্টিনন্দন করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে চার স্তরের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঈদের জামাতকে ঘিরে মাঠ ও আশপাশে মোতায়েন থাকবে ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ৫ প্লাটুন বিজিবি, প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য, র্যাব ও আনসার বাহিনী। পাশাপাশি সাদাপোশাকে নজরদারি চালাবে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। পুরো এলাকা থাকবে সিসি ক্যামেরার আওতায় এবং ওয়াচ টাওয়ার থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে পরিস্থিতি। আকাশপথে নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হবে ড্রোন ক্যামেরাও।
দূর–দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে “শোলাকিয়া স্পেশাল” নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে। একটি ভৈরব থেকে এবং অন্যটি ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জে পৌঁছাবে। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দল ও মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুসল্লিদের জন্য খাবার পানি ও আপ্যায়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ঐতিহাসিক এই ময়দান থেকে বিশ্ব মানবজাতির শান্তি, শৃঙ্খলা ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হবে। পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহ, যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষ এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করা হবে।
উল্লেখ্য, জনশ্রুতি অনুযায়ী ১৮২৮ সালে এই মাঠে একসঙ্গে সোয়া লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকেই ‘সোয়া লাখিয়া’ নামের উৎপত্তি, যা বর্তমানে শোলাকিয়া নামে পরিচিত।
মশিউর নাদিম