বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩, ২০২৫
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩, ২০২৫

শবে বরাতেও ক্ষমা পাবে না যে দুই দল মানুষ

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

 

হাদিসের আলোকে শবে বরাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রজনী। এ রাতের ইবাদতও ফজিলতপূর্ণ। হাদিসের ভাষ্যমতে, এ রাতে অনেককে ক্ষমা করা হয়। তবে কিছু দুর্ভাগা ব্যক্তি রয়েছে, যারা এই বিশেষ রজনীতেও ক্ষমাপ্রাপ্তির নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হবে।

এ রাতে মহান আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করেন। তবে এ রাতেও দুই ধরনের মানুষকে ক্ষমা করেন না। এরা হলেন ১. মুশরিক ব্যক্তি, . অন্তরে হিংসাবিদ্বেষ পোষণকারী।

. মুশরিক

শিরকে লিপ্ত ব্যক্তিকে মুশরিক বলা হয়। শিরক মানে বিশ্ব জাহানের একচ্ছত্র অধিপতি মহান আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করা বা শরিক করা। মূর্তিপূজা, কবরপূজা, পীরপূজা ইত্যাদি যে কোনোভাবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করা।

শিরক আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণ্য ও জঘন্যতম পাপ। কোরআনে শিরকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জুলুম বলা হয়েছে এবং বিভিন্ন আয়াতে বারবার শিরক থেকে বেঁচে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করলেও শিরক ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করা ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। এবং যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে এক মহাপাপ করে। (সুরা নিসা : ৪৮)

শিরক যারা করবে, তাদের জন্য জান্নাত হারাম ঘোষণা করে আল্লাহ বলেন, আর যে আল্লাহর সাথে শরিক করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। (সুরা মায়েদা: ৭২)

শবে বরাতে আল্লাহ তাআলা তার অনেক বান্দাকে ক্ষমা করে দিলেও যারা শিরক করে তাদের ক্ষমা করেন না।

. মুশাহিন

মুশাহিন সেই ব্যক্তি যার অন্তরে হিংসাবিদ্বেষ ও পরশ্রীকাতরতা আছে। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী বা মুসলমান ভাইয়ের প্রতি শত্রুতা আছে। যে মানুষের অকল্যাণ ও অনিষ্ট কামনা করে।

ইসলাম সবার কল্যাণকামী হওয়ার নির্দেশ দেয়। হিংসাবিদ্বেষ পোষণ করতে নিষেধ করে। নবিজি (সা.) মুসলমানদের পরস্পরের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভালোবাসা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পরস্পর ভাই ভাই হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, হিংসা করো না, সম্পর্ক ছিন্ন করো না এবং আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে যাও। (সহিহ মুসলিম: ৬২৯৫)

ইসলামে হিংসা নিষিদ্ধ ও অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। হিংসার কারণে মানুষের নেক আমল ধ্বংস হয়ে যায়। নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থেকো। হিংসা নেক আমলসমূহ ধ্বংস করে দেয়, যেমন আগুনে লাকড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯০৫)

হিংসা কোনো মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। ঈমান ও হিংসা সাংঘর্ষিক বৈশিষ্ট্য। নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কোনো বান্দার অন্তরে ঈমান ও হিংসা একত্রিত হতে পারে না। (সুনানে নাসাঈ: ৩১০৯)

হিংসাবিদ্বেষে যার অন্তর কলুষিত থাকে, সেও শবে বরাতে আল্লাহর তাআলার ক্ষমা ও রহমত থেকে বঞ্চিত হয়।

আল

আরও পড়ুন

সম্পাদক: এস এম আকাশ

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

স্বত্ব © ২০২৩ কাজী মিডিয়া লিমিটেড

Designed and Developed by Nusratech Pte Ltd.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More