২০০১ সালে রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বোমা হামলা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে আগামী মঙ্গলবার (১৩ মে) চূড়ান্ত রায় জানাবেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রায় পাঠ শুরু হয়। আদালত জানিয়েছেন, রায়ের পাঠ শেষ হবে আগামী মঙ্গলবার এবং সেদিনই জানা যাবে দণ্ডিতদের সাজা বহাল থাকবে কি না।
আদালতে আসামিপক্ষের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির ও অ্যাডভোকেট এস এম শাজাহান।
এর আগে ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল হরকাতুল জিহাদ (হুজি)-এর শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, মাওলানা তাজউদ্দিনসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা ডেথ রেফারেন্স মামলাও দায়ের করেন।
২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখে ঢাকার রমনা বটমূলে ছায়ানট আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে একটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে ৯ জন এবং পরে হাসপাতালে আরও একজনসহ মোট ১০ জন প্রাণ হারান। আহত হন অন্তত ৫০ জন।
ঘটনার ভয়াবহতা ও প্রেক্ষাপট দেশব্যাপী তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে। বিস্ফোরণের পর ছায়ানটের দীর্ঘদিনের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান এবং উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।
ঘটনার ছয় বছর পর ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর মামলার চার্জশিট দেয়া হয়। চার্জশিটে মোট ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়, যাদের মধ্যে অধিকাংশই হরকাতুল জিহাদ (হুজি)-এর সক্রিয় সদস্য।
২০১৪ সালের ২৩ জুন বহুল আলোচিত এ মামলায় হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, মাওলানা তাজউদ্দিনসহ ৮ জনের ফাঁসি ও ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। মামলায় ৩৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন আসামিরা।
এমএম/ইএ/দীপ্ত সংবাদ