‘বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর বহু কারণ আছে। তিনি আমাদের স্বাধীনতার স্থপতি’ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
‘দীপ্ত নিউজ’ পাঠকদের জন্য পোস্ট‘টি হুবহু তুলে ধরা হলো—
ড. আসিফ নজরুল লিখেন, ‘বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর বহু কারণ আছে। আমি আগেও বলতাম, এখনো বিশ্বাস করি, ওনার জন্ম না হলে অন্তত ১৯৭১ সালে আমাদের দেশ স্বাধীন হতো না। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনে ওনার অবদান অনস্বীকার্য ও অতুলনীয়। তিনি আমাদের স্বাধীনতার স্থপতি।’
‘এই দীর্ঘ সময়ে গণতন্ত্র, মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতের প্রতি ওনার সুস্পষ্ট কমিটমেন্ট ছিল। এর প্রতিফলন এমনকি ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর পর্যন্ত গণপরিষদের বিতর্কের দলিলেও পাওয়া যায়।’
সাবেক আইন উপদেষ্টা লিখেন, ‘তবে উনি দেশ পরিচালনায় দক্ষ ছিলেন না। ১৯৭১–পরবর্তী বাংলাদেশ পরিচালনা করাও নানা কারণে অত্যন্ত দুরূহ ছিল। কিন্তু এর কোনোটিই ১৯৭২ সাল থেকে তার ক্রমে ক্রমে আরও অত্যাচারী ও স্বৈরাচারী শাসকে পরিণত হওয়াকে জাস্টিফাই করে না। তার শাসনামলের দুর্ভিক্ষ, নির্বিচার হত্যা এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার বাস্তবতাকেও কোনো কিছু দিয়ে আড়াল করা যায় না।’
‘ওনার কয়েক বছরের দুঃশাসনের স্মৃতি মনে রেখেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার জীবনব্যাপী অবদানের জন্য বহু মানুষ তাকে ভালোবাসতেন ও শ্রদ্ধা করতেন। আমি তাদের একজন।’
অধ্যাপক আসিফ নজরুল লিখেন, ‘আমার মতো মানুষের জন্য এই ভালোবাসার প্রকাশকে কঠিন করে তোলে শেখ হাসিনার শাসনকাল। তার শাসন ছিল আইডেনটিটি–বেসড ফ্যাসিজমের একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ। নিজের নিষ্ঠুর ও নিকৃষ্ট শাসনকে চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি তার বাবাকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করেছেন। এটাই বঙ্গবন্ধুকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিপক্ষ করে তুলেছিল। বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় মৃত্যু ঘটে শেখ হাসিনার আমলে, অনেকটা তারই হাতে।’
‘আজ বঙ্গবন্ধুর প্রথম মৃত্যুর ৫১তম বার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডে প্রায় গোটা পরিবারসহ প্রাণ হারান তিনি। বঙ্গবন্ধুর জন্য ভালোবাসা। দোয়া।’ যোগ করেন ড. আসিফ নজরুল।
এসএ