শিরোনাম
প্রবাসীদের হয়রানি কমাতে বিশেষ আদালত, চালু হবে প্রবাসী কার্ড বাংলাদেশের ‘জয় কেড়ে’ নিলো আফগানিস্তান যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় সরকারের নিন্দা আগাম প্রস্তুতিতে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার ৪০ শতাংশ কমেছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী টানা ছুটিতে বান্দরবানের হোটেলে আগাম বুকিংয়ের হিড়িক ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জার্মান পর্যটকের উদ্ধার ল্যাপটপ হস্তান্তর করেছে পুলিশ ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় আ. লীগের বিচার দাবি এনসিপির ৩৫ বছর বয়সের পর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ বন্ধ হচ্ছে: আইনমন্ত্রী মেসির চোখে সেরা ১০ উদীয়মান খেলোয়াড়
দীপ্ত নিউজ
জাতীয়

প্রবাসীদের হয়রানি কমাতে বিশেষ আদালত, চালু হবে প্রবাসী কার্ড

Deepto News : দীপ্ত নিউজ
দীপ্ত নিউজ ডেস্কপ্রকাশ :
প্রবাসীদের হয়রানি কমাতে বিশেষ আদালত, চালু হবে প্রবাসী কার্ড

প্রবাসীদের হয়রানি ও আইনি জটিলতা কমাতে বিশেষ আদালত গঠনের উদ্যোগ নেবে সরকার। বিদেশে অবস্থানরত যেসব বাংলাদেশি শ্রমিকের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তাদের বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

একইসঙ্গে প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’র প্রথম অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

জোরপূর্বক ও স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি নিয়ে তিন দশকের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা, নতুন জ্ঞান বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ নীতিগত অগ্রাধিকার নির্ধারণের লক্ষ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং ঢাকায় সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ডিয়েপা এলমার। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাঙ্গলিয়ার অধ্যাপক ড. বিল অ্যাডজার শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রামরুর উপনির্বাহী পরিচালক মোতাসিম বিল্লাহ ও পরিচালক (প্রোগ্রাম) মেরিনা সুলতানা। সম্মেলনের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন রামরুর সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের হয়রানি ও আইনি জটিলতা কমাতে বিশেষ আদালত গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেসব বাংলাদেশি শ্রমিক বিদেশে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন, তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও আইনি সহায়তা দেওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেই সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার পাশাপাশি তাঁদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, উপযুক্ত জীবনযাপন এবং মর্যাদা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

দুবাই সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদেশে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিককে অত্যন্ত কষ্টকর পরিবেশে জীবনযাপন করতে হয়। সেখানে এক শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে তিনি তাদের দৈনন্দিন দুর্ভোগের কথা জানতে পারেন। ওই শ্রমিক তাকে জানান, সকালে বাথরুমে যাওয়ার জন্যও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এরপর সারাদিন কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি কাজ শেষে বাসায় ফিরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা, রান্না ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজও নিজেদের সামলাতে হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এসব শ্রমিকের কর্মপরিবেশ, আবাসন, নিরাপত্তা ও জীবনযাপনের মান উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। তৈরি পোশাকশিল্প, কৃষি ও পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সও দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান এবং তাঁদের জন্য বিশেষ সুযোগ–সুবিধা নিশ্চিত করতে ১১ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় এসব খাতে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশসহ বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম চলছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের মৌলিক তথ্য সংরক্ষণ, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে সেবা গ্রহণ এবং দেশে ফিরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও প্রবাসীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রামরুর সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার বলেন, অভিবাসন খাত এগিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রয়োজনীয় কর্মসূচি এবং পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দরকার। অতীতের মতো সীমিত পরিসরে কর্মসূচি পরিচালনা করলে চলবে না।

সম্মেলনের প্রথম দিনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি, অভ্যন্তরীণ অভিবাসীদের জীবন ও জীবিকার সংকট, শ্রম অভিবাসন, মানব পাচার এবং প্রবাসী আয় নিয়ে পৃথক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব অধিবেশনে বাংলাদেশের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা, গবেষণার ফলাফল ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের চলাচল ও স্থানান্তরের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাঙ্গলিয়ার অধ্যাপক ড. বিল অ্যাডজার। আগামী দশকে অভিবাসন ও প্রবাসী আয়প্রবাহের সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন রাথা গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী মেরি শেঠা এবং বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. দিলীপ রথা।

এ ছাড়া অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় তরুণ গবেষকদের ফোরাম, অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা কমিটি, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং অভিবাসন অধিকার কমিটির কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।

সম্মেলনে রামরুর ৩০ বছরের কার্যক্রম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং স্মারকগ্রন্থের ইলেকট্রনিক সংস্করণ উন্মোচন করা হয়। আয়োজক সংস্থার তথ্যানুযায়ী, গত তিন দশকে রামরু ১শ’টির বেশি গবেষণা পরিচালনা করেছে, ১৩ জাতীয় নীতি ও কৌশল প্রণয়নে অবদান রেখেছে এবং দেশের ২১ জেলায় অভিবাসীদের অধিকারভিত্তিক সেবা দিয়েছে।

সম্মেলনে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, দেশি–বিদেশি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ফখরুল ইসলাম আলমগীর অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।