ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তান প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম গভর্নর মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই এবার ডাকসু প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালা মেঝেতে জিন্নাহ ও জামায়াতে ইসলামী সাবেক আমির গোলাম আযমের ছবি পদদলিত করতে সাঁটিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ২৫–২৬ সেশনের একদল শিক্ষার্থী
ডাকসু ভবনের সামনে দুটি ছবি ফ্লোরে সাঁটিয়ে দেন।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ ছবিগুলোর ওপর দিয়ে হেঁটে প্রতিবাদ জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষার্থীবর্ষের শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ বলেন, ‘ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক, যাঁর কি না ইশতেহারে ছিল মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরা তিনিই একজন পাকিস্তানপন্থীকে ডাকসু সংগ্রহশালায় দেয়ালের মধ্যে সম্মানের সহিত তাঁর ছবি লাগাতে চেয়েছেন। ক্ষমতা দেখিয়ে তিনি এটা করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের ক্ষমতা দিয়ে এবং বাংলাদেশপন্থীদের ক্ষমতা দিয়ে, আমরা গোলাম আযম এবং জিন্নাহর ছবি, পাকিস্তানপন্থীদের ছবি পায়ের নিচে লাগালাম এবং এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে কোনো পাকিস্তানপন্থীদের রাজনীতি সামনে আনা যাবে না।’
এর আগে, সংস্কার শেষে নতুনভাবে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) চালু করা হয় ডাকসু সংগ্রহশালা। সেখানে রাখা হয়েছিল পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ৩টি ছবি। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’।
আরও স্থান পায় ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি ও ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং। আরও রাখা হয় ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবি।
এই তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর রবিবার রাত থেকেই ফেসবুক ও ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়।
বিতর্কের মধ্যেই সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডাকসু সংগ্রহশালায় ঢুকে জিন্নাহর ছবিরগুলোর ফ্রেম ভাঙচুর করে ছবি ছিঁড়ে ফেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী ও ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আবু তৈয়ব হাবিলদার।
এরপর, বিকালে জিন্নাহর ছবির জায়গায় সেখানে গোলাম আযমকে জুতাপেটার একটি ছবি সাঁটিয়ে দেয় বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়া।
এদিকে, জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও কঠোর অবস্থান নেয়।
প্রশাসন জানায়, ভাষা আন্দোলন, ঐতিহাসিক মুক্তিসংগ্রাম ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি বিশ্ববিদ্যালয় বা ডাকসুর সংগ্রহশালায় প্রদর্শন গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানানো হয়।
এ বিষয়ে উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে।
এসএ