সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোয় শুধু বাড়ছেই না, বদলে যাচ্ছে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হিসাবও। এত দিন সব গ্রেডে মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেয়া হলেও নতুন কাঠামোয় উচ্চতর গ্রেডের জন্য এই হার ধাপে ধাপে কমবে।
নতুন পে স্কেল অনুযায়ী, ২০তম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট হবে মূল বেতনের ৫ শতাংশ। পঞ্চম গ্রেডে তা কমে হবে ৪ শতাংশ। তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব রয়েছে। একই নীতি সশস্ত্র বাহিনীতেও প্রযোজ্য হবে।
অর্থাৎ নতুন কাঠামোয় বেতন যত ওপরে যাবে, শতাংশের হিসাবে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার তত কমবে।
তবে নতুন পে স্কেলে মূল বেতন বড় পরিমাণে বাড়ানো হচ্ছে। গ্রেড–২০–এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং গ্রেড–১–এর নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
Tap here to add Deepto News as a trusted source
বাড়ি ভাড়ায় ভাতা হার কমলেও টাকার অঙ্ক বাড়বে— নতুন পে স্কেলে বাড়ি ভাতার শতাংশও কমছে। ঢাকার ক্ষেত্রে বর্তমান হারের তুলনায় কম শতাংশে বাড়ি ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে মূল বেতন বড় পরিমাণে বাড়ায় ভাতার প্রকৃত টাকার অঙ্ক কমবে না; বরং অনেক ক্ষেত্রে তা বাড়বে।
সরকারের নতুন কাঠামোয় মূল বেতন সর্বনিম্ন গ্রেডে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত এবং প্রথম গ্রেডে ১০০ শতাংশ বাড়ছে। এই বড় ধরনের মূল বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য করতেই বিভিন্ন ভাতার হার পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।
আট বছরেই উচ্চতর গ্রেড— চাকরিজীবীদের ক্যারিয়ারে আরেকটি পরিবর্তন আসছে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে। বর্তমানে একই গ্রেডে ১০ বছর চাকরি করলে পদোন্নতি না হলেও উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন কাঠামোয় সেই সময় কমিয়ে ৮ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পদোন্নতিযোগ্য পদে কর্মরতরা পদোন্নতি না পেলে চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার এই সুবিধা পাবেন। আর পদোন্নতির সুযোগ নেই—এমন ব্লকড পদে কর্মরতদের জন্য তিনবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
চিকিৎসা ও মোবাইল ভাতায় বাড়তি সুবিধা— নতুন পে স্কেলে চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সী সরকারি চাকরিজীবীদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৪ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসা ভাতা বাড়বে। ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের জন্য মাসে ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৬ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
আরেকটি নতুন বিষয় হলো সব গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীর জন্য মোবাইল ভাতা চালু করা। প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়াও যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতাও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বাংলা নববর্ষ ভাতার হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে।
বাতিল হচ্ছে বিশেষ প্রণোদনা— ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চালু করা বিশেষ প্রণোদনাও নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে বাতিল হবে। শুরুতে মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে দেওয়া হলেও পরে এই প্রণোদনা ১০ শতাংশ করা হয়েছিল।
তিন ধাপে বাস্তবায়ন— ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভা জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬ অনুমোদন করেছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে নতুন কাঠামোয়। তবে বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মূল বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন কাঠামোতে শুধু বেতন নয়, সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা, উচ্চতর গ্রেড, চিকিৎসা সুবিধা এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন–ভাতাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এসএ