সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

নটরডেম ইউনিভার্সিটিতে প‍্যালিয়েটিভ কেয়ার সেনসিটাইজেশন অনুষ্ঠান

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
নটরডেম ইউনিভার্সিটিতে প‍্যালিয়েটিভ কেয়ার সেনসিটাইজেশন অনুষ্ঠান

প‍্যালিয়েটিভ কেয়ার হলো এমন একটি চিকিৎসা ও সেবা পদ্ধতি, যেখানে নিরময় অযোগ্য জীবন সীমিত রোগে আক্রান্ত রোগী এবং তাদের পরিবারের শারীরিক মানসিক সামাজিক এবং আধ্যাত্মিক স্বাস্হ্যের সম্পূর্ণ যত্ন এবং বিজ্ঞানসম্মতভাবে চিকিৎসার কথা বলে।
এ বিষয়ে ছাত্র-শিক্ষকদের সচেতনতার জন্য আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি নটরডেম ইউনিভার্সিটি ক‍্যাম্পাসে প‍্যালিয়েটিভ কেয়ার সেনসিটাইজেশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প‍্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ নটর ডেম এলামনাই অব নর্থ আমেরিকার উদ্যোগে এবং নটর ডেম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহায়তায় এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নটরডেম ইউনিভার্সিটি ভাইস চ‍্যান্সেলর ফাদার প‍্যাট্রিক গ‍্যাফনি।

অনুষ্ঠানের মূল বক্তা ছিলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির প‍্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা অধ‍্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন আহমদ, প‍্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক অধ‍্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া এবং আমেরিকার জন্স হপকিন্স স্কুল অব মেডিসিনের গবেষক ডা. মোহাম্মাদ নাকিবউদ্দীন।

স্বাগত বক্তব‍্যে ফাদার প‍্যাট্রিক গ‍্যাফনী প‍্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়টি সাধারণের জন‍্য খুব সুন্দরভাবে উপস্হাপন করেন এবং এই বিষয়ে ছাত্র-শিক্ষকদের মধ‍্যে অধিকতর সচেতনতার আহ্বান জানান।

এছাড়া অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “প্যালিয়েটিভ কেয়ার কেবল একটি চিকিৎসা-পদ্ধতি নয়, এটি মানবিক দায়িত্ববোধের প্রকাশ।” তিনি শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে জানার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে প্যালিয়েটিভ কেয়ারের পরিসর এখনও সীমিত। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে শিক্ষার্থীরাই পরিবার ও সমাজে এ ধরনের সেবা-সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া তাঁর বক্তব্যে প্যালিয়েটিভ কেয়ারে কমিউনিটির সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি কমিউনিটির সচেতন ও কর্মচঞ্চল অংশ হলো শিক্ষার্থীরা। পরিবার-গোষ্ঠী ও সমাজে শিক্ষার্থীরা সচেতনতা সৃষ্টি, সহানুভূতিশীল আচরণ এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সেবাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে পারে।”

ডা. মোহাম্মাদ নাকিবউদ্দীন বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্যালিয়েটিভ কেয়ারের চর্চার সম্ভাবনা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “সহমর্মিতা, সম্মান, মায়া-মমতা ও মানসিক সমর্থন জীবনের শেষ পর্যায়ের কাছাকাছি থাকা মানুষের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

বক্তব‍্য শেষে উপস্থিত ছাত্র-শিক্ষকের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন বক্তা ও আলোচকগণ। অনুষ্ঠানে ধন‍্যবাদ জ্ঞাপন করতে এসে ব্রাদার সুবল রোজারিও নটর ডেম ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রছাত্রীদের জন‍্য প‍্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়ে ক্লাব কার্যক্রম চালুর প্রস্তাব প্রদান করলে তাৎক্ষনিকভাবে নটর ডেম ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ ক্লাব কার্যক্রমে প‍্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্তিতে সম্মত হন।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More