রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে হরহামেশা বিক্রি হতে দেখা যায় কুষ্টিয়ার মণ্ডা, মিঠাই এবং তিলের খাজা থেকে শনপাপড়ি। কুষ্টিয়ার এসব পণ্যের চাহিদা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও বাঙালিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আজকে ছেউড়িয়ার বিখ্যাত শনপাপড়ি তৈরির আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হলো।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়া মণ্ডলপাড়া গ্রাম। সেখানে শনপাপড়ির তৈরির জন্য ৭–৮ টি কারখানা আছে। মিষ্টি স্বাদের শনপাপড়ি খেতে খুব ভালো লাগলে, এর তৈরির প্রক্রিয়াটি কিন্তু সহজ নয়। অনেক মানুষের শ্রম আর নানা উপকরণ দিয়ে তৈরি হয় জনপ্রিয় এই খাবার। সেই প্রক্রিয়াটাও দেখার মতো।
মাটির বড় চুলায় কড়াই বসিয়ে পরিমাণ মতো চিনি ও পানি দেয়া হয়। এরপর একসঙ্গে জ্বাল দিয়ে ঘন সিরা তৈরি করা হয়। যা দেখতে অনেকটা সরিষার তেলের মতো। এরপর এই চিনির সিরা চুলা থেকে নামিয়ে ঢালতে হয় টিনের ট্রেতে। তখন দেখতে চকলেটের মতো মনে হয়। কড়াইটি আবোরও চুলায় ওঠে। তাতে নির্দিষ্ট পরিমাণে ডালডা–আটা জ্বাল দেয়া হয়। সেগুলো একটি পাত্রে নামিয়ে রাখার পর আগেই প্রস্তুত হওয়া চকলেটের মণ্ডগুলো একটি বড় টিনের ট্রেতে রাখা হয়।
এরপর নানা কৌশল ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। এভাবে প্রায় ৪০টি পাক দেয়ার সময় অল্প অল্প করে আটা মেশাতে হয়। এরপর দৃশ্যমান হয় এরকম ছোট ছোট আঁশের মতো পণ্য।
এরপর বেশ কিছুক্ষণ চলে এই আঁশের মতো দেখতে উপকরণ নিয়ে কারুকাজ। এভাবে এক সময় এটি অনেক পাতলা এবং খাবার উপযোগী হয়ে ওঠে।
এরপরের ধাপটি অন্যরকম। মূলত তখন এই পাপড়িগুলোকে আলাদাভাবে শেপ দেয়া হয়। এই ধাপের কাজের জন্য স্টিলের তৈরি বিভিন্ন ধরনের ডাইস, টিনের ট্রে, গ্লাস ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। এবং এক সময় এমন আকার ধারণ করে।
আর সবশেষে প্লাস্টিকের বক্সে সেগুলো সাজিয়ে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের স্টিকার লাগিয়ে বিক্রি করা হয়। সম্পূর্ণ হাতে তৈরি, ক্ষুদ্র এই শিল্পটি বর্তমানে নানা কারণে হুমকির মুখে। বিশেষ করে চিনিসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়ছে এই শিল্পের ওপর। কুষ্টিয়ার বিভিন্ন গ্রামের অসংখ্য মানুষের জীবিকা শনপাপড়ি তৈরি করা। স্বস্তি আসুক কাঁচামালের বাজারে, নিরাপদ থাকুক তাদের পেশা, এই কামনা।
দেবেশ চন্দ্র সরকার / এজে / দীপ্ত সংবাদ