সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া‘কে জড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও প্রতিবেদন নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
তথাকথিত ‘১০ বিলিয়ন ডলারের দুর্নীতি’র কাল্পনিক দাবি প্রচার করায় সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও সংবাদকর্মীদের তথ্যের অসারতা তুলে ধরে তুলাধোনা করেছেন দেশের প্রথিতযশা ফ্যাক্টচেকার ও সাংবাদিকরা।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে জনৈক সংবাদকর্মী দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ “১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি টাকার” দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন।
এই বক্তব্যের গাণিতিক অসংগতি তুলে ধরে কড়া সমালোচনা করেছেন ‘দ্যা ডিসেন্ট‘-এর সম্পাদক ও ফ্যাক্টচেকার কদরউদ্দিন শিশির।
তিনি বলেন, “১ বিলিয়ন সমান এখন প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে ১০ বিলিয়ন সমান ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। অথচ ওই সাংবাদিক ১০ বিলিয়নকে ১ হাজার কোটি টাকা বলছেন।“
শিশির আরও বলেন, ১ হাজার কোটি টাকা আসলে মাত্র ৮২ মিলিয়ন ডলারের সমান। ভুলবশত ‘মিলিয়ন‘ এর জায়গায় ‘বিলিয়ন‘ বলা হয়নি, বরং সচেতনভাবেই এই বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে।
বিষয়টিকে কদরউদ্দিন শিশির ‘ব–সুন্দরী সাংবাডিকহেডিকতা‘ হিসেবে আখ্যা দেন।
অন্যদিকে, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও ফ্যাক্টচেকার জুলকারনাইন সায়েরও এই দাবির অবাস্তবতা তুলে ধরেন। তিনি সহজ হিসাব দিয়ে দেখান, ১৬ মাসের ব্যবধানে ১০ বিলিয়ন ডলার দুর্নীতি করা বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে কেবল অসম্ভবই নয়, বরং ‘বেসম্ভব‘।
সায়ের বলেন, “১৬ মাসে ১০ বিলিয়ন ডলারের দুর্নীতি করতে হলে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬২৫ মিলিয়ন ডলার লুটপাট করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রমাণ ছাড়া “ফেঁসে যাচ্ছেন” জাতীয় শব্দ ব্যবহার করে ফাত্রামি করা সাংবাদিকতা পেশার জন্য অপমানজনক।
যথাযথ তথ্য–প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে জুলকারনাইন সায়ের এই ধরনের অপপ্রচারকে “স্বপ্নে পাওয়া শান্ডার তেল ফর্মুলা“র সাথে তুলনা করেন।
ফ্যাক্টচেকারদের মতে, মূলত সামাজিক মাধ্যমে ভিউ বাড়িয়ে অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যেই এমন চটকদার ও ভিত্তিহীন শিরোনাম ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো প্রকার যাচাই–বাছাই ছাড়া একজন সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে এই বিশাল অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগ তোলাকে ‘অপসাংবাদিকতা‘র নিকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতন নেটিজেনরাও এই বিভ্রান্তিকর রিপোর্টের নিচে নিজেদের বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকেই বলছেন, ডলার ও টাকার হিসাব না জানা এসব ‘ভিউ শিকারি‘রা সাংবাদিকতা পেশাকে সাধারণ মানুষের কাছে হাসির পাত্রে পরিণত করছে।
মাসউদ