সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১১ মাসের অনুসন্ধান শেষে দুদক থেকে ছাড়পত্র পেলেন সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
দীর্ঘ ১১ মাসের অনুসন্ধান শেষে সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেন'কে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)।

দীর্ঘ ১১ মাসের অনুসন্ধান শেষে সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)

দুর্নীতি ও তদবিরবাণিজ্য’সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় দুদক নিষ্পত্তিপত্র দিয়েছে বলে দাবি করেন মোয়াজ্জেম হোসেন।

শুক্রবার (৬ মার্চ) নিজ ফেসবুক পোস্টে মোয়াজ্জেম হোসেন এ তথ্য জানান।

দীপ্ত নিউজপাঠকদের জন্য ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো

আলহামদুলিল্লাহ, দীর্ঘ ১১ মাসের অনুসন্ধানের পর দুদক প্রতিবেদন প্রদান করেছে, আমাকে সকল অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে। দুর্নীতি ও তদবিরবাণিজ্যেরঅভিযোগের প্রেক্ষিতে বিন্দুমাত্র প্রমাণ না পেয়ে দুদক স্বসম্মানে আমাকে নিষ্পত্তিপত্র বুঝিয়ে দিয়েছে।

৫ আগস্ট পরবর্তী সরকারে আসিফ মাহমুদ দায়িত্ব নেওয়ার পর আমাকে এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো। স্থায়ী চাকরি পেলে ছেড়ে দেয়ার শর্তে আমি জয়েন করি। প্রথমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছিলো আসিফ মাহমুদ।

এখানে খুব বেশি সমস্যা হয়নি। সমস্যা সৃষ্টি হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসার পর থেকে। প্রতিদিন এতো এতো লোক আসতো শুধু তদবির আর সুবিধা নেওয়ার জন্য। কিন্তু যখনি সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয় তখন আমরা শত্রু হয়েছি। বিশেষ করে আমি , কারণ আসিফ মাহমুদকে সবাই রিচ করতে পারতো না, ফলে অনেকেরই সব ক্ষোভ জমা হয় আমার উপর।

এরমধ্যে হুট করে একদিন কোনো এভিডেন্স ছাড়াই আওয়ামী লীগের পেজ থেকে পোস্ট হয় আমি ৩১১ কোটি টাকার তদবির বাণিজ্য করেছি! পরবর্তীতে লীগের পেজের ঐ পোস্টটাই হুবহু কয়েকটা জাতীয় দৈনিকে নিউজ করা হলো, দাঁড়িকমাসহ! সেইম হেডলাইনে,সেইম নিউজ, জাস্ট কপিপেস্ট। মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়াতে সেটা ভাইরাল হয়ে গেলো।

প্রতাপশালীদের অন্যায্য সুবিধা দিতে না পারায় একটা ফেসবুক পোস্টের উপর ভিত্তি করে শত্রু হলাম পুরো দেশের, গালি খেলাম সবার, সমাজে হারালাম সম্মান। পুরো পরিবারকে বিব্রতকর পরিস্থিতেতে ফেলে দিলাম! এছাড়াও গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তি পুরোদমে এই প্রোপাগান্ডা কাজে লাগালো।

দুদকের দীর্ঘ ১১ মাসের অনুসন্ধানের সময় তাদেরকে আমি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। যখনই তারা ডেকেছে, গিয়েছি, জবাব দিয়ে এসেছি। সেটা করতে গিয়েও হয়রানির শিকার হয়েছি কিছু মিডিয়ার, হরেদরে সেটা নিয়ে ফটোকার্ড বানিয়ে আমাকে নিয়ে প্রতিদিন নিউজ করতে থাকে। একেকদিন একেক সংখ্যায় নিউজ করতো, তাদেন ইচ্ছেমতো সংখ্যা বসিয়ে।

অনেককেই ভয় দেখিয়ে, জোরপূর্বক অথবা অর্থের লোভ দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য আদায় করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু মিথ্যা অভিযোগের বিপরীতে কোনো প্রমাণ কেউ হাজির করতে পারেনি।

আমার জীবনের একটি মর্মান্তির ঘটনা; ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমি বাসার সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে আমার স্পাইনাল কর্ডের ভেতরে থাকা ফ্লুইড বের হয়ে যায়। সেটার সঠিক চিকিৎসা না হলে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে ডাক্তার আমাকে জানায়। এমতাবস্থায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আমাকে যেসব পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিতে বলেছে তাও নিতে পারিনি, বাইরে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নিতে তারা পরামর্শ দেন। কিন্তু, বিশেষ গোষ্ঠীর পত্রিকায় নিউজ হলো, দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে মোয়াজ্জেম। অর্থাৎ আমি পঙ্গু হয়ে গেলেও চিকিৎসা নিতে চাওয়াটা অন্যায়।

অবশেষে দুদক দীর্ঘ অনুসন্ধান করে দুর্নীতির অভিযোগের কোনো সত্যতা না পেয়ে আমাকে মুক্তি দিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ ।

আমার পুরো পরিবারকে হয়রানি করা হয়েছে এসব মিথ্যা অভিযোগের প্রেক্ষিতে। আমাকে সামাজিকভাবে, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে গত ১টা বছর। আমার উপর হওয়া জুলুমের কোনো বিচার কি এই দেশে পাবো? হয়তো পাবো না, কিন্তু অনুরোধ থাকবে ফারদার আর হয়রানি ফেস করতে চাই না।

২দিন আগে দেখলাম আজকের পত্রিকা, বার্তা বাজারসংবাদমাধ্যম গুলোতে আমার গ্রামের অন্য একজনের নির্মাণাধীন বাড়ি আমার নামে তারা চালিয়ে দিয়ে নিউজ করেছে। ভাই আর কতো? অন্যের বাড়িও আমার, অন্যের টাকাও আমার। এসব মিথ্যাচার থেকে কবে মুক্তি পাবো? আমার পুরো ফ্যামিলীটাকে তছনছ করে দিয়েছেন আপনারা।

দুঃখ লাগে, কষ্ট হয়, পরে ভাবি এরই নাম জীবন। রাজার ছেলে রাজা হবে, তুই সরকারি অফিসে বসবি কেন???

কাউকে দোষী প্রমাণ করার আগেই মানুষটা দোষী বলে যে মিডিয়া গুলো আওমালীগের খেয়ে বিএনপির কোলে উঠে, বিশেষ সূত্র, গোপন সূত্রের আজগুবি বরাতে কারো চরিত্র হননে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। কোনো তথ্যপ্রমাণের ধার তারা ধারে না! এটাই কি সাংবাদিকতা?

একটা মানুষকে ফেসবুক পোস্টের অভিযোগের ভিত্তিতে দিনের পর দিন মানসিক, সামাজিক যন্ত্রণা দিয়ে আপনারা কি প্রমাণ করতে চাচ্ছেন? শক্তিশালীদের সাথে সমঝোতা, ন্যাগোসিয়েশন করে না চলার, অবৈধ সুবিধা দিতে না পারার ভিক্টিম হলাম আমি। আপনাদেরকে বিশেষ সুবিধা দিতে পারিনি, তাই বলে এতো বিদ্বেষ, এতো প্রোপাগান্ডা! এতই ক্ষোভ থাকলে গু/লি করে মে/রে ফেলতে পারেন, কিন্তু সামাজিকভাবে আর হেয় করবেন না দয়া করে। আমাকে এবং আমার পরিবারকে স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে দেন।

দুদকের অনুসন্ধান ও নিষ্পত্তির সব ডকুমেন্ট পোস্টে সংযুক্ত করেছি। আমার জন্য দোয়া করবেন। যেনো শান্তিমতো বাঁচতে পারি। আর কারো জীবনে এমন মিথ্যা অভিযোগের হেনস্তাঅপবাদের ভার যেনো না আসে, সেটাই আশা রাখছি।

 

মাসউদ/এসএ

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More