শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬
শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬

দালালের খপ্পরে পড়ে দুবাইয়ে পাচার, মেয়েকে ফিরে পেতে বাবা-মায়ের আকুতি

'কলিজা ফেটে যায়, বাবা হয়ে কারো কাছে যেতে পারছি না লজ্জায়'

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

নোয়াখালীতে মায়ের সাথে অভিমান করে ৭ মাস আগে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান পলি আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী। সামাজিকতার কথা চিন্তা করে বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে নিজেরাই খোঁজাখুঁজি করার কয়েকদিন পর জানতে পারেন দালালের খপ্পরে পড়ে প্রায় সাত মাস আগে দুবাই যায় পলি।

পলি আক্তার নোয়াখালীর সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের উত্তর শুল্যাকিয়া গ্রামের আবুল কালাম ও রহিমা বেগম দম্পতির বড় মেয়ে।

জানা যায়, অভাবের সংসারের মেয়ের সব শখ পূরণ করতে পারতেন না দিনমজুর বাবা আবুল কালাম ও মা রহিমা বেগম। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিমানে ঘর ছাড়েন মেয়ে পলি আক্তার। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি তারা। কিছুদিন পর জানতে পারলেন মেয়ে ঢাকার পোশাক কারখানায় চাকরি নিয়েছে। তারপর দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের খবর পাননি। এ বছর মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি বিদেশি নম্বর থেকে বার্তা আসে রহিমা বেগমের মোবাইলে। জানতে পারেন মেয়েকে পাচারকারীরা দুবাই নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করছে। তার মেয়ে পলিকে হোটেলে আটকে রাখা হয়েছে আরও ৩০ জন মেয়ের সঙ্গে। সেখানে বিভিন্ন ভিডিও ধারণ করে তাদের ব্ল্যাকমেইল করে নির্যাতন চালানো হয়।

এমতাবস্থায় দেশে ফিরতে বাড়িতে স্বজনদের ফোন দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। এখন মেয়েকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন পলির বাবামা।

পলির মা রহিমা বেগম বলেন, ‘স্বামীর ঘর নেই বর্তমানে থাকি বাবার বাড়িতে। লোক লজ্জায় কাউকে কিছু বলতেও পারছি না। আমি মা হয়ে মেয়ের কষ্ট সহ্য করতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করছি, তিনি যেন আমার মেয়েকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেন। আমার আর কোনো চাওয়া নেই।

পলির বাবা আবুল কালাম বলেন, ‘কান্নার জন্য কথা বলতে পারছিনা। মেয়ে পড়ালেখা করতো, আমি ঠিকমতো খরচ দিতে পারতাম না। ইটভাটায় কাজ নিয়ে আমি সেখানে চলে গেছি। বাড়িতে আসি দেখি মেয়ে নাই৷ সব জায়গায় খুজেও মেয়েকে পাই নাই। এখন শুনি মেয়ে দুবাইতে বন্দি আছে। সেখানে প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় মেয়েকে নির্যাতন করতেছে। কলিজা ফেটে যায় বাবা হয়ে কারো কাছে যেতে পারছি না লজ্জায়।

নোয়াখালী জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক আবু ছালেক বলেন, ‘কোনো এক প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে মেয়েটি দুবাই চলে গেছে। কোনো কোম্পানির ভিসায় গেলে আমরা সহজেই ওই কোম্পানিকে ধরতে পারতাম। কিন্তু সে ভ্রমণ ভিসায় যাওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু মেয়েটাকে আটকে রাখা হয়েছে এবং সে দেশে ফিরে আসতে চায়, তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদাশিক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করব।

এ.এস.এম.নাসিম/আফ/দীপ্ত নিউজ

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More