বাংলাদেশ ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি)-এ আয়োজিত ওভারসিজ কোর্স পার্টিসিপ্যান্টদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে এই প্রথমবারের মতো সিভিল স্পনসররা প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এই আয়েজনে বাছাইকৃত বেসামরিক পেশাজীবীদের একটি সুসংগঠিত দল স্টাফ কলেজ কোর্সে অংশগ্রহণকারী বিদেশি সামরিক কর্মকর্তাদের সামনে বাংলাদেশের জাতীয় প্রোফাইল, সম্ভাবনা ও অগ্রগতি উপস্থাপন করেন।
এই মর্যাদাপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে মিত্র দেশগুলোর ভবিষ্যৎ সামরিক নেতৃত্বের সামনে বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতি তুলে ধরার দায়িত্ব দেওয়া হয় সিভিল স্পনসরদের। সিভিল স্পনসর দলের সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম। তার নেতৃত্বে উপস্থাপনাগুলোতে একাডেমিক গভীরতা, বিষয়ভিত্তিক ভারসাম্য এবং জাতীয় প্রতিনিধিত্বের মর্যাদা নিশ্চিত হয়।
ডিএসসিএসসির ওরিয়েন্টেশনে এফবিসিসিআই–এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনির হোসেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ উপস্থাপনা দেন। উদ্যোক্তা ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী মাকসুদ হোসেন বাংলাদেশ ও পূর্ব আফ্রিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন পরিচালনা করেন। কে এম জহিরুল কায়ুম বাংলাদেশের যুবসমাজের সম্ভাবনা ও ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এছাড়া প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে একটি প্রভাবশালী উপস্থাপনা দেন। রাফসান চৌধুরী উৎসব ও মেলা বিষয়ক উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন এবং সৈয়দ আলমাস কবির বাংলাদেশের ইতিহাসের ওপর একটি প্রেক্ষিতভিত্তিক উপস্থাপনা প্রদান করেন।
ডিএসসিএসসির ওরিয়েন্টেশনে অন্যান্য সম্মানিত সিভিল স্পনসরদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাহমুদুল হক, মনিরুল ইসলাম, ফাহিম সাদিকুজ্জামান, মাহবুবুল হক এবং আখতারুজ্জামান পাভেল।
পুরো কর্মসূচিতে ডিএসসিএসসির নেতৃত্ব সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করেন। কলেজের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল চৌধুরী মোহাম্মদ আজিজুল হক হাজারী এবং ডেপুটি কমান্ড্যান্ট এয়ার কমডোর মোহাম্মদ মাহফুজ উদ্দিন উপস্থিত থেকে সিভিল স্পনসরদের উৎসাহ দেন। সিভিল স্পনসররা জনগণের সঙ্গে জনগণের সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি উন্নয়নে তাদের ভূমিকার জন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেন। সিভিল স্পনসরদের পক্ষে প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম কমান্ড্যান্ট ও ডেপুটি কমান্ড্যান্টের নেতৃত্ব ও সহায়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
এই কর্মসূচি ডিএসসিএসসির বিবর্তনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা সশস্ত্র বাহিনী ও বেসামরিক পেশাজীবীদের মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।