রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সরকার গঠন নিয়ে শুরু হয়েছে নানামুখী সমীকরণ। এই সমীকরণে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ও ঋণবিষয়ক সম্পাদক এমএ কাইয়ুম‘কে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন গুঞ্জন।
দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত এই নেতাকে নতুন মন্ত্রিসভায় ‘টেকনোক্রেট’ কোটায় স্থান দেয়া হতে পারে। এমন জোর আলোচনা এখন বিএনপি নীতিনির্ধারক মহল থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, এমএ কাইয়ুম কেবল একজন সফল রাজনীতিবিদই নন, বরং একজন উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। তার ঝুলিতে রয়েছে বিএ ও এমএ ডিগ্রিসহ সম্মানসূচক ডি.লেট ডিগ্রি। একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। স্বদেশ প্রপার্টিস লিমিটেড ও নাভিদ বিল্ডার্স লিমিটেড মতো বড় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তার প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা প্রশ্নাতীত।
এই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয় দায়িত্ব দেয়া হলে তিনি তার মেধা ও শ্রম দিয়ে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘এমএ কাইয়ুম দলের একজন বিশ্বস্ত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তার মতো বিচক্ষণ ও শিক্ষিত মানুষকে মন্ত্রিসভায় প্রয়োজন। টেকনোক্রেট কোটায় তাকে মন্ত্রী করা হলে তা হবে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগের যোগ্য স্বীকৃতি।’
১৯৮১ সালে বৃহত্তর গুলশান থানা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সহ–সভাপতি হিসেবে তার রাজনীতি যাত্রা শুরু করেন এমএ কাইয়ুম। এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে বাড্ডা থানা ও ঢাকা মহানগর বিএনপি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তার সফল নেতৃত্ব দলকে সুসংগঠিত করেছিল।
১৯৯৪–২০১৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৯ বছর তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাড্ডা–গুলশান লিংক রোড সংযোগ, বিদ্যুৎ, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে তিনি নিজেকে একজন সফল জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রমাণ করেছেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে ঢাকা–১০ (বর্তমান ঢাকা–১১) আসন থেকে ৪দলীয় জোট প্রার্থী হিসেবে তিনি লড়াই করেছিলেন এবং সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
এসএ