বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ।
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। তার ডাকনাম কমল। বাবা রসায়নবিদ মনসুর রহমান ও মা জাহানারা খাতুন রানী। বগুড়া ও কলকাতায় শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত করার পর জিয়াউর রহমান পিতার সঙ্গে তার কর্মস্থল করাচি চলে যান। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার হিসেবে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধে একটি স্বতন্ত্র সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তার নামে গড়ে ওঠে জেড ফোর্স।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর ২৫ আগস্ট জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনী প্রধান নিযুক্ত হন এবং একই বছর ৭ নভেম্বর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অধিষ্ঠিত হন।
১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে শাহাদত বরণ করেন জিয়াউর রহমান।
শহীদ জিয়া ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি ৩ বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। এই দল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশে উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি শুরু করেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন অর্থাৎ ১৯ জানুয়ারি বেলা ১১টায় শে–রে–বাংলা নগর অবস্থিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। দলের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া দিনটি উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও রক্তদান কর্মসূচিসহ নানা সেবামূলক উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ আগামী ২০ জানুয়ারি বেলা ১১টায় জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বিএনপি। এ সভায় দলের স্থায়ী কমিটি সদস্যসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন এবং বক্তব্য রাখবেন।
এসএ