‘আওয়ামী লীগ টানা ১৪ বছর সরকারে আছে। এই সময়ে দেশের ইতিহাসে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। প্রবৃদ্ধির পারদ ওপরে উঠেছে, মানুষের আয়–রোজগারও বেড়েছে। এতে দেশেন জনগন আওয়ামী লীগের ওপর আস্থাশীল। সরকারের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র পরিচালনা দেখে বিএনপি অসুবিধায় আছে। তারা এখন জনগনের কাছে ভোট চাইতে লজ্জা পায়।
জনগন বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ক্যান্টেনমেন্টের ভাঙ্গা সুটকেস থেকে গড়ে ওঠা বিএনপি কোন রাজনৈতিক দলই নয়‘ বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ–সভাপতি ও আওয়ামী লীগ থেকে নোয়াখালী–৪ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন।
শনিবার (২০ মে) বিকেলে সুবর্নচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। নোয়াখালী–৪ আসনে মনোনয়ন চাওয়ার মতো ৭–৮ জন যোগ্য লোক আছে। আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত জননেত্রী শেখ হাসিনার ক্ষুদ্র একজন কর্মী হিসেবে সরকারের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র পরিচালনার চিত্র জনগনের কাছে তুলে ধরতে এলাকায় গণসংযোগ করছি। সরকারের উন্নয়ন ও সুশাসনে মানুষ আস্থাশীল। তাই গণসংযোগে দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ করছে।
নোয়াখালী–৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, নোয়াখালী–৪ আসনে এখন যিনি এমপি, তিনি আমাদের দলের সাইনবোর্ডে এমপি হয়ে বিএনপি–জামায়াতের লোকদের দলে অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছেন। অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে নিজস্ব বলয় তৈরী করে তাদেরকে অর্থে–বিত্তের মালিক করেছেন। অপরদিকে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করেছেন। দুর্নীতি–অনিয়ম, চাকুরি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য ও অপরাজনীতি তার নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি এখানে সদর–সুবর্ণচরের মানুষকে বঞ্চিত করে বাহিরের লোকজনকে অনিয়ম ও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে চাকুরি থেকে শুরু করে অনেক বড় বড় সুযোগ–সুবিধা দিয়েছেন। এখন সদর–সুবর্ণচরের মানুষ তার অপরাজনীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা বহিরাগত অপরাজনীতির হোতাকে বাদ দিয়ে সদর–সুবর্ণচরের স্থানীয় নেতৃত্ব থেকে দলীয় মনোনয়ন চান।
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি আমার মাতৃতুল্য নেত্রী শেখ হাসিনা এবং নোয়াখালীর ঠিকানা আমাদের অভিভাবক ওবায়দুল কাদেরের কাছে নোয়াখালী–৪ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চাইব। আমাকে যদি দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়, তাহলে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে এই আসনে বিপুল ভোটে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত হবে। আর যদি কোন কারণে আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয়, তাহলেও আমি দলের পক্ষে কাজ করবো।
এসময় নোয়াখালী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুজ জাহের, সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বাহার চৌধুরী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জাকিউল ইসলাম দুলাল, গোলাম হোসেন বাবলু, সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল মাহমুদ সোহেলসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আল/দীপ্ত সংবাদ