
চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন লুলা

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নাটকীয় জয়ের মধ্য দিয়ে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছেন বামপন্থি নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।
কট্টর ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে চতুর্থবারের মতো দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন নজির গড়লেন ৮০ বছর বয়সী এই নেতা।
রবিবাব (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোট গণনা শেষে লুলাকে বিজয়ী ঘোষণা করে ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্ট।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট।
নির্বাচনের প্রথম দফায় পিছিয়ে ছিলেন লুলা। গত ৪ অক্টোবরের ভোটে তিনি পেয়েছিলেন ৪৫ শতাংশ ভোট। আর ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছিলেন ৪৭ শতাংশ। কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রাজিলের আধুনিক ইতিহাসে প্রথম ধাপে হেরে গিয়ে দ্বিতীয় ধাপে বিজয়ী হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। আগামী ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি চতুর্থ মেয়াদে শপথ গ্রহণ করবেন লুলা।
বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর লুলার ‘ওয়ার্কার্স পার্টি‘ প্রধান এদিনিয়ো সিলভা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ।’
পোস্টের সঙ্গে তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। যেখানে সমর্থকদের ‘ওলে, ওলে, ওলে, ওলে, ওলা! লুলা, লুলা!’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
উল্লেখ্র, ১৯৮০–র দশকে, অর্থাৎ ব্রাজিলে সামরিক স্বৈরশাসনের শেষ পর্যায়ে রাজনীতিতে আসা লুলা এ পর্যন্ত সাতবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
২০০২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। এরপর ২০২২ সালে তিনি তৃতীয় মেয়াদে জয়লাভ করেন; আধুনিক ব্রাজিলের ইতিহাসে সেটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচন। ওই নির্বাচনে লুলার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কট্টর ডানপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারো।
আর এবারের নির্বাচনে লুলার প্রতিপক্ষ সিনেটর বলসোনারো হলেন সেই জায়ার বলসোনারোরই সন্তান।
এসএ






এই সংবাদে মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ আছে।