বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এ পর্যন্ত যতবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার প্রতিটিতেই ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। তিনটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে জনমত যাচাইয়ের জন্য ব্যালট পেপারে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ বাক্সের ব্যবস্থা থাকলেও, কোনোবারই ‘না’ জয়লাভ করতে পারেনি। বরং প্রতিটি ক্ষেত্রেই বড় ব্যবধানে ক্ষমতাসীনদের প্রস্তাব বা আস্থাই জয়ী হয়েছে।
দেশে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার ১৯ দফা কর্মসূচির ওপর জনসমর্থন যাচাই করেন। আস্থার ভোটে ‘হ্যাঁ’ নিরঙ্কুশ জয় পায়। সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ৯৮.৯ শতাংশ ভোটই ছিল ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে।
একইভাবে, ১৯৮৫ সালে সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নীতি ও কর্মসূচির সপক্ষে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৯৪.১ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে। সমালোচকদের মতে, ওই দুটি ভোট মূলত শাসকদের বৈধতা সংকট দূর করার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ
শাসনতান্ত্রিক পদ্ধতি পরিবর্তনের জনমত যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক হিসেবে বিবেচিত ১৯৯১ সালের গণভোটেও ‘হ্যাঁ’ বাক্সের জয়জয়কার ছিল। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় পদ্ধতিতে ফেরার লক্ষ্যে আয়োজিত এই ভোটে প্রায় ৮৪ শতাংশ মানুষ পরিবর্তনের সপক্ষে, অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন। দেশের শাসনব্যবস্থা বদলে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই গণভোটটি ছিল একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন: গণভোটের জন্য স্কুল, কলেজ-মাদ্রাসায় প্রচারণার নির্দেশ
২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে আবারও আলোচনায় এসেছে গণভোট। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় চতুর্থ গণভোটেও ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।