দীপ্ত নিউজ
জাতীয়

কলেরা প্রতিরোধে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরীর প্রশংসায় বিল গেটস

দীপ্ত নিউজ ডেস্ক
দীপ্ত নিউজ ডেস্কপ্রকাশ :
কলেরা প্রতিরোধে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরীর প্রশংসায় বিল গেটস

মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা সহজলভ্য করা এবং এ রোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরীর গবেষণার প্রশংসা করেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বিল গেটস।

গত ৭ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে কলেরা নিয়ন্ত্রণে টিকার গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি ফিরদৌসী কাদরী ও তার গবেষক দলের অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

কলেরা একটি মারাত্মক ডায়রিয়াজনিত রোগ, যা মূলত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এ রোগ দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে নিরাপদ পানীয় জল ও উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থার অভাব রয়েছে—এমন জনবহুল এলাকায় কলেরার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি।

বিল গেটস তার ভিডিওতে বলেন, কলেরার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে মুখে খাওয়ার টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরী এ টিকা ব্যবহারের মাধ্যমে কলেরা প্রতিরোধে কাজ করছেন। তার ও সহগবেষকদের গবেষণা অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করছে।

বিল গেটসের মতে, কলেরা দীর্ঘ মেয়াদে প্রতিরোধ করতে নিরাপদ পানি ও কার্যকর পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে এ ধরনের অবকাঠামো গড়ে তুলতে সময় ও বিপুল অর্থের প্রয়োজন। অন্যদিকে, সহজে গ্রহণযোগ্য ও সাশ্রয়ী মুখে খাওয়ার টিকা তুলনামূলক দ্রুত কলেরা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

কলেরা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন ১০ কোটি ডোজ টিকা

ভিডিওতে বাংলাদেশের জাতীয় কলেরা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা তুলে ধরেন বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরী। তিনি জানান, এ পরিকল্পনায় কোথায় ও কখন টিকা দেওয়া প্রয়োজন, তার বিস্তারিত রূপরেখা রয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় ১০ কোটি ডোজ কলেরার টিকা প্রয়োজন।

বছরের নির্দিষ্ট সময়ে কলেরার প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সময়মতো টিকা সরবরাহ ও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে কম খরচে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা নিয়ে গবেষণা এবং তা সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) এবং বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও উদ্যোগেও সহায়তা দিয়ে আসছে সংস্থাটি।

বিল গেটসের প্রকাশিত ভিডিওটি কলেরা প্রতিরোধে টিকার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ।

বাংলাদেশে চলছে কলেরার টিকাদান কর্মসূচি

এদিকে, বাংলাদেশে কলেরা প্রতিরোধে সম্প্রতি বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে। গত ২২ আগস্ট থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্ধারিত ১৪টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনের (ওসিভি) প্রথম ডোজ দেওয়া হয়।

কর্মসূচির আওতায় এক বছরের বেশি বয়সী শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়। তবে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের এ কর্মসূচির আওতায় টিকা দেওয়া হচ্ছে না।

কলেরা প্রতিরোধে এ কর্মসূচিতে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ডোজের পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। বিভিন্ন স্কুল ও এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে এ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

টিকাদান কর্মসূচির স্থান ও সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আগ্রহীরা vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারেন।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন ফিরদৌসী কাদরী

সংক্রামক রোগ, বিশেষ করে কলেরা প্রতিরোধ এবং টিকা নিয়ে গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরী। জনস্বাস্থ্য ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৩ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পুরস্কার এবং ২০২১ সালে র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার লাভ করেন।

তিনি আইসিডিডিআরবির মিউকোসাল ইমিউনোলজি অ্যান্ড ভ্যাকসিনোলজি ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর গবেষণা সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং সাশ্রয়ী টিকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

এর আগেও বিল গেটস তাঁর ব্যক্তিগত ব্লগ ও ওয়েবসাইট ‘গেটস নোটস’–এ ফিরদৌসী কাদরীর গবেষণা ও অবদান নিয়ে বিশেষ ফিচার প্রকাশ করেছেন। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতেও কলেরা প্রতিরোধে তাঁর গবেষণা ও উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তিনি।

বিশ্বজুড়ে কলেরার মতো প্রাণঘাতী রোগ প্রতিরোধে সাশ্রয়ী টিকার সহজলভ্যতা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা তৈরি করা এখনো জনস্বাস্থ্য খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে ফিরদৌসী কাদরী ও তাঁর সহগবেষকদের কাজ বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: প্রথম আলো।