শিক্ষিত, সচেতন নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশ আছেন যাদের সরাসরি মিডিয়া এক্সেস নাই। ফলে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই তাদের গুরুত্বপূর্ন দাবি রাষ্ট্রের স্টেকহোল্ডারদের নিকট তুলে ধরেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর গত ক’দিন আমি গভীরভাবে লক্ষ্য করলাম, সাধারণ মানুষ ও দেশের সচেতন নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি উত্থাপন করছেন, তারা বিএনপির নেতৃত্ত্বাধীন সরকারের আসন্ন মন্ত্রিসভায় ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।
জনাব মিলনকে খুব কাছে থেকে আমি পর্যবেক্ষণ করেছি যুগের পর যুগ ধরে। আমি লক্ষ্য করলাম, এমন ব্যক্তিরাও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দাবির পক্ষে পোস্ট দিচ্ছেন যারা কোনোভাবেই মিলন সাহেরবের পরিচিত ব্যক্তিবর্গ নন। এরপর কৌতুহল থেকে বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার হাজারো পোস্ট দেখে, পড়ে, এমনকি একই সময়ে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখে আমার মনে হয়েছে, দেশবাসির হৃদয়ে বড় জায়গা করে নিয়েছেন এহছানুল হক মিলন।
জনগনের এই সেচ্ছায় দাবির পেছনে যে ইতিবাচক কারণগুলো আমি জানি, তা হলো:
ক. ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা পূনরুদ্ধার
দীর্ঘ মেয়াদি আওয়ামী শাসনামলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন অভিভাবকরা। পড়ালেখায় মনোযোগ হারায় শিক্ষার্থীরা এবং কোনোমতো পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিলেই পাশ! সেই সংস্কৃতি শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, সচেতন অভিভাবক ও দেশবাসি মন থেকে গ্রহণ করেন নি। অভিভাবকরা বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিগত জোট সরকার আমলের শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অবদানকে অনুভব করতে শুরু করেন। তাঁর সেই সফলতার সূত্র ধরেই তাঁকে শিক্ষামন্ত্রী হিসবে পেতে দাবি উঠেছে চারদিকে। মানুষের বিশ্বাস, মিলনই পারবেন দেশের শিক্ষাখাতে শৃ্ঙলা ফিরিয়ে আনতে।
খ. ত্যাগী ও দেশপ্রেমিক নেতা
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আওয়ামী শাসনামলের একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরের সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নিজ নির্বাচনী এলাকায়। সেসময় কয়েক ডজন মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ কারাবরণ, গুম আতঙ্কে বনে–জ্ংগলে রাত যাপনসহ অবর্ণনীয় জুলুমের শিকার হয়েও নিজদল ও রাজনীতি ছাড়েন নাই এই নেতা। অনেকবার কিংস পার্টির বহু লোভনীয় প্রস্তাবকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। কেবলমাত্র শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শে অবিচল থেকেছেন এই পেশাদার রাজনীতিবিদ। নিজের মার্কিন সিটিজেনশিপ ত্যাগ করেছেন শুধু রাজনীতির স্বার্থে।
গ. দুর্নীতির অভিযোগ নেই
ইতোপূর্বে দুইবার জাতীয় সংসদ সদস্য এবং একবার পূর্ন মেয়াদে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, অথচ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নাই। শিক্ষা ব্যবস্থাকে নকলমুক্ত করার জন্য তাঁর হেলিকপ্টার নিয়ে ছুটে চলার সমালোচনাকারীদের একটি বিষয় জানা নেই, তিনি তাঁর দলীয় এক শুভাকাঙ্খীর ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার চেয়ে নিয়ে, রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের স্বার্থে নিজে ফুয়েল খরচ দিয়ে হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছিলেন।
ঘ. উচ্চ শিক্ষিত ও সুদক্ষ ব্যক্তিত্ব
পড়ালেখা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। পিএইচডি করেছেন মালয়েশিয়ায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিচালনা করে দেশে তৎকালীন সরকারের ইমেজ বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠা রাজনীতির ক্যারিয়ারে বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রীসভায় কাজ করেছেন এবং তারেক রহমানকে তিনি মনে করেন জেনেটিক্যালি স্মার্ট ।
সচেতন দেশবাসির মতো আমিও মনে করি, এমন ভ্দ্রলোক শিক্ষামন্ত্রী হলে এ জাতির শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং জাতি মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারবে; সেসঙ্গে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে তিনি গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখবেন।
লেখক: সাংবাদিক ও রাজনীতি বিশ্লেষক