এবার ‘ফেডারেল অপরাধের’ অভিযোগ আনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রীয় গোপনীয় নথি নিজ বাড়িতে রাখা এবং তা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানানোসহ সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৯ জুন) বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এ সংবাদ জানিয়েছে। এ অভিযোগে নিজ অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডার মিয়ামি ফেডারেল আদালতে একটি ‘ফেডারেল অপরাধের’ মামলা হয়েছে।
ফেডারেল অপরাধ হলো এমন কিছু কাজ, যা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার দ্বারা নির্ধারিত। যে কাজগুলোকে দেশটির কংগ্রেসের উভয় কক্ষ সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে অবৈধ বলে পাস হওয়ার পর তা দেশটির প্রেসিডেন্টের সইয়ের মাধ্যমে অপরাধ বলে ঘোষণা করা হয়, সেগুলোকে ফেডারেল অপরাধ বলা হয়। এ ধরনের অপরাধের বিচার দেশটির ফেডারেল বা রাজ্যের বিচার বিভাগ উভয়ই করতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ৭৬ বছর বয়সী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপনীয় নথি নিজ বাড়িতে রাখা এবং তা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানানোসহ সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযোগের আরও বিশদ বিবরণ এখনও অস্পষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের ফলে আদালতে ট্রাম্পের বিচার শুরু হবে।
বিবিসি বলছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার অভিযোগ গঠন করা হলো এবং সাবেক কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম ফেডারেল অভিযোগ। অবশ্য ২০২৪ সালে নির্বাচনে আবারও রিপাবলিকান পার্টির হয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন ট্রাম্প।
এ মামলা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের যে ইচ্ছা তাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। কারণ, তিনি ই মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে তার কারাদণ্ড হতে পারে এবং ফেডারেল অপরাধে কারাদণ্ড হলে তাকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার অযোগ্য বলেও ঘোষণা করা হতে পারে।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার (৮ জুন) রাতে ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, তাকে আগামী মঙ্গলবার (১৩ জুন) মিয়ামির ফেডারেল আদালতে উপস্থিত হতে তলব করা হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘আমি কখনোই ভাবিনি যে, যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এমনটা ঘটতে পারে।’
আফ/দীপ্ত নিউজ