প্রকৃতির নিয়ম মেনে শীতের জীর্ণতা সরিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের অভিষেক ঘটেছে আজ।
আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পহেলা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন এবং বাংলা সনের একাদশ মাস।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে কিছুটা ভিন্ন আবহে এবার বসন্ত উদযাপিত হতে যাচ্ছে।
এবার নেই চিরাচরিত একুশের বইমেলা। তাই বরাবরের মতো ফাগুনের রং ও রূপ নিয়ে নতুন বইয়ের কাছে যাওয়া হবে না নগরবাসীর।
তবে বসন্তকে বরণ করতে প্রতি বছরের মত এবারেও বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী ‘বসন্ত উৎসব‘ করেছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষৎ। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় আয়োজিত চিরাচরিত বসন্ত উৎসব এবার হলো রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে ৭টায়, সীমিত পরিসরে।
বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ যেমন, তেমনি এ মাসের রাজনৈতিক গুরুত্বও অসীম। ফাগুনে শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল রং মনে করিয়ে দেয় বায়ান্নর ফাগুনের শহীদদের কথা। মনে করিয়ে দেয় ভাষাশহীদের রক্তের ইতিহাস। যাদের রক্তের সোপান বেয়ে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তাই ফাগুন বাঙালির দ্রোহেরও মাস।
যানা যায়, ১৯৫০–১৯৬০ দশকেই আনুষ্ঠানিকভাবে পহেলা ফাল্গুন পালন শুরু হয়। সে সময় বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানের সংস্কৃতি থেকে নিজেদের আলাদা করতে রবীন্দ্রসংগীত শোনার পাশাপাশি বাঙালি নিয়মে পহেলা ফাল্গুন পালন শুরু করে। তবে ৭১–এর পর স্বাধীন দেশে ১৯৯১ সালে সর্বপ্রথম ফাল্গুনের প্রথম দিনকে পহেলা ফাল্গুন ও বসন্তবরণ উৎসব হিসেবে উদ্যাপন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ।
এই ঋতুতে গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়। ফুলের মুকুল আসে। পাখি গান গায়। আর বাতাসে ভাসে মিষ্টি ফুলের ঘ্রাণ। প্রজাপতিরা রঙিন ডানা মেলে জানায় ঋতুরাজের আগমনী বার্তা। নতুন রূপে সাজিয়ে তোলার বার্তা নিয়ে আসে বসন্ত।
বসন্ত ঋতুকে সবার মাঝে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছেন কবি, সাহিত্যিকরা। তারা বসন্ত ঋতুকে নিয়ে লিখেছেন অসংখ্য গান ও কবিতা। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায়: ‘ফুল ফুটুক, আর না–ই ফুটুক আজ বসন্ত’। বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের বসন্ত নিয়ে লিখেছেন, ‘বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে সই গো, বসন্ত বাতাসে’। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বসন্ত নিয়ে লিখেছেন, ‘আহা আজই এ বসন্তে, এত ফুল ফোটে’র মতো অসংখ্য কালজয়ী গান।
বসন্ত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবন যেমন রঙিন হতে পারে, তেমনি কঠোর ও শুষ্ক হওয়াটাও প্রকৃতির নিয়ম।