শনিবার, ২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি
শনিবার, ২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

অনলাইনে ই-টিন সার্টিফিকেট করবেন যেভাবে

অনলাইনে ই-টিন সার্টিফিকেট করার উপায় একদম সহজ এবং ঝামেলামুক্ত, যা ডিজিটাল বাংলাদেশের একটি দারুণ প্রয়াস। টিন গ্রহণকারীদের যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে তা হলো- টিন থাকলেই যে আয়কর রিটার্ন দিতে হবে এমনটি নয়

delowar.hossain
6 minutes read

অনলাইনে ই-টিন সার্টিফিকেট করার উপায় একদম সহজ এবং ঝামেলামুক্ত, যা ডিজিটাল বাংলাদেশের একটি দারুণ প্রয়াস। টিন গ্রহণকারীদের যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে তা হলো- টিন থাকলেই যে আয়কর রিটার্ন দিতে হবে এমনটি নয়

অনলাইনে ই-টিন সার্টিফিকেট করবেন যেভাবে

টি-আই-এন বা ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বারসহ একজন আয়কর যোগ্য নাগরিক কোন কর অঞ্চলের আওতাভুক্ত তার যাবতীয় তথ্য সম্বলিত নথিপত্রটিকে সংক্ষেপে টিন সার্টিফিকেট বলা হয়। প্রাথমিকভাবে নাগরিকটি কর দেওয়ার জন্য উপযুক্ত হয়েছেন কি-না তা যাচাইয়ের জন্য সরকারের নিকট ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে হয়। এই রিটার্ন জমা দানের সময় টিন সংখ্যাটির প্রয়োজন হয়। রিটার্নে প্রদান করা তথ্যের ভিত্তিতে নাগরিকের উপর কর ধার্য হয়। প্রতি অর্থ বছরে তিনি সেই পরিমাণ কর দিতে বাধ্য থাকেন।

অর্থাৎ সামগ্রিক কর ব্যবস্থার মূলে আছে টিন সনদপত্র। বর্তমানে ইন্টারনেট থেকে এর ইলেকট্রনিক সংস্করণও সংগ্রহ করা যায়, যা ই-টিন নামে পরিচিত। এই নিবন্ধটিতে অনলাইনে ই-টিন সার্টিফিকেট করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

কাদের জন্য ই-টিন করা জরুরি
যেহেতু আয়করযোগ্য প্রতিটি ব্যক্তিকেই রিটার্ন জমাদানের জন্য টিন করতে হয়, তাই প্রথমেই জেনে নেওয়া জরুরি কাদের জন্য আয়কর দেওয়া আবশ্যক।

আয়করযোগ্য ব্যক্তি
অনাবাসী বাংলাদেশীদের যাদের স্থায়ী ভিত্তি আছে, হিন্দু যৌথ পরিবার, ব্যক্তি সংঘ, অংশীদারি ফার্ম এবং আইনত সৃষ্ট কৃত্রিম ব্যক্তি, যাদের আয়কৃত টাকার পরিমাণ ২ লাখ ৫০ হাজারের উপরে। তবে এদের মধ্যে

· মহিলা এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের ব্যক্তিদের আয়ের পরিমাণ ৩ লাখ টাকার উপরে হতে হবে

· প্রতিবন্ধীদের আয়ের পরিমাণ ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার উপরে হতে হবে

· গেজেট ভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের আয়কৃত টাকার পরিমাণ ৪ লাখ ২৫ হাজারের উপরে হতে হবে।

আরও পড়ুন- জেনে নিন শিশুদের ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম

ই-টিন সনদ যাদের জন্য আবশ্যক
· মোটরযানের মালিকানা লাভ করলে

· মূল্য সংযোজন করের অধীনে নিবন্ধিত ক্লাবের সদস্য পদ থাকলে

· ব্যবসা বা পেশা পরিচালনার নিমিত্তে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্ত হলে

· ডাক্তার, দন্ত বিশেষজ্ঞ, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কষ্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, আইনজীবী, প্রকৌশলী, স্থপতি বা সার্ভেয়ার বা অন্য কোনো অনুরূপ পেশাদার সংস্থার সঙ্গে নিবন্ধিত হলে

· আয়কর অনুশীলনকারী বোর্ডের সঙ্গে নিবন্ধিত হলে

· চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বা ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন বা সংস্থার সদস্যপদের অধিকারী হলে

· পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন বা সংসদ সদস্যবৃন্দ হলে

· স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, সরকারী বা আধা-সরকারি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত দরপত্রে অংশগ্রহণকারী হলে

· কোম্পানি বা কোম্পানির একটি গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তা হলে

· ব্যাংক থেকে প্রাইজ বন্ড বা সেভিং সার্টিফিকেট কিংবা ক্রেডিট কার্ডধারী হলে।

আরও পড়ুন- জেনে নিন বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার বৃত্তি সম্পর্কে

ই-টিন সার্টিফিকেট থাকার সুবিধা

· এই প্রশংসাপত্রটি থাকলে যে কেউ ব্যাংক থেকে ২ লাখ বা তার বেশী অঙ্কের টাকার সঞ্চয়পত্র তৈরি করতে পারবে

· ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করতে পারবে

· কমার্শিয়াল ব্যাংক অথবা লিজিং কোম্পানি থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারবে

· সাধারণ বীমার সার্ভেয়ারের লাইসেন্স নিতে পারবে

· কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর আওতায় কোম্পানির স্পন্সর পরিচালক এবং যে কোনো শেয়ারহোল্ডারের সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালক হতে পারবে

· আমদানি সংক্রান্ত ব্যবসা ক্ষেত্রে আমদানিপত্র নিবন্ধন করতে পারবে

· আবশ্যিক না হলেও ব্যাংকে সেভিংস ও কারেন্ট একাউন্ট পরিচালনা করতে টিনের প্রয়োজন হয়। তবে এই একাউন্টগুলোতে টিন থাকার সুবিধা হলো- অধিক পরিমাণ লেনদেন করা যায়, সুদের উপর কম ট্যাক্স ধার্য হয় প্রভৃতি।

· ব্যাংকে জমা করা অর্থের উপর অর্জিত সুদ বা লাভ থেকে বর্তমানে ১৫% ট্যাক্স ধার্য করা হয়। এখানে টিন থাকলে সেই সুদ বা লাভের উপর ধার্যকৃত ট্যাক্স কমে ১০% হয়।

অনলাইনে ই-টিন সার্টিফিকেট করার উপায়

ই-টিন করতে যা যা প্রয়োজন
অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট করার জন্য শুধু এনআইডি (ন্যাশনাল আইডেন্টিটি) কার্ড সঙ্গে থাকলেই হয়। তবে ব্যবসা বা কোম্পানির ক্ষেত্রে আরও কিছু কাগজপত্রের প্রয়োজন পড়ে।

যেমন-

· ম্যামোর‍্যান্ডাম অফ আর্টিকেল (এমওএ)

· আর্টিকেল অফ অ্যাসোসিয়েশন (এওএ)

· ট্রেড লাইসেন্স

· ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট

ধাপে ধাপে ই-টিন সার্টিফিকেট করার ডিজিটাল পদ্ধতি

প্রথম ধাপ:
ই-টিন করার জন্য প্রথমে যেতে হবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর ওয়েবসাইটে। এই সাইটের অধীনে নিজের একটি অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আগে নিবন্ধন করতে হবে। তার জন্য ক্লিক করতে হবে রেজিস্টার বাটনে। এবার একটি নিবন্ধন ফর্ম পাওয়া যাবে, যেখানে মাঝে কোনো স্পেস ছাড়াই ইংরেজি ছোট হাতের অক্ষরে একটি আইডি, পাসওয়ার্ড, নিরাপত্তা প্রশ্নোত্তর, দেশ এবং মোবাইল নাম্বার দিতে হবে।

সবশেষে ক্যাপচা ছবি দেখে ইংরেজি বড় হাতের অক্ষরে ভেরিফিকেশন লেটার লেখার পর রেজিস্টার বাটনে ক্লিক করতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফর্মে প্রদানকৃত মোবাইল নাম্বারে একটি যাচাইকরণ কোড আসবে। এই কোডটি নির্ভুলভাবে ফর্মের নির্দিষ্ট স্থানে বসিয়ে সক্রিয় বাটনে চাপ দিতে হবে। আর এর মাধ্যমেই নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে এবং সেই সঙ্গে প্রার্থীর অ্যাকাউন্টও সক্রিয়ও হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় ধাপ:
এখন সেই আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে। তারপর যে ইন্টারফেসটি আসবে তাতে উল্লেখিত এখানে ক্লিক করুন বোতামে ক্লিক করতে হবে। এরপর যে পেজটি আসবে সেখানে করদাতার অবস্থা, রেজিস্ট্রেশনের ধরন, আয়ের প্রধান উৎস, আয়ের প্রধান উৎসের অবস্থান, প্রার্থীর অবস্থান নির্বাচন করতে হবে। সব তথ্য সঠিক ভাবে প্রদান করে শেষে গো টু নেক্সট বাটনে ক্লিক করতে হবে।

এবার প্রার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার পালা। এখানে এনআইডি অনুসারে প্রার্থীর নাম, লিঙ্গ, এনআইডি কার্ড নাম্বার, জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার নাম, স্ত্রীর নাম, মোবাইল নাম্বার, ইমেল এবং বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা প্রতিটি তথ্য নির্ভুল ভাবে প্রদান করতে হবে। এরপর আবার গো টু নেক্সট-এ যেতে হবে।

এখন এতক্ষণ ধরে দেওয়া যাবতীয় তথ্য এনআইডি কার্ডে প্রার্থীর ছবিসহ একবারে দেখানো হবে। সবকিছু ভালো করে যাচাই করে সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। আর এর মাধ্যমে তৈরি হয়ে যাবে ই-টিন সার্টিফিকেট।

আরও পড়ুন- জেনে নিন আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পদ্ধতি

ই-টিন সার্টিফিকেট সংগ্রহ
টিন সার্টিফিকেট দেখুন-এ ক্লিক করে ইলেকট্রনিক টিন সার্টিফিকেটটি দেখা যাবে। এটি এখন বা পরবর্তীতে যে কোনো সময় ডাউনলোড করে ফোন বা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা যাবে। এছাড়াও বিভিন্ন কাজে লাগানোর জন্য এটি মুদ্রণ করেও ব্যবহার করা যাবে। এমনকি এখান থেকে নিজের বা প্রয়োজনে অন্য কোনো ইমেইলেও ই-টিন সনদটি পাঠানো যাবে।

ই-টিন নাম্বার পুনরুদ্ধার করার উপায়
টিন প্রশংসাপত্র হারিয়ে গেলে সাহায্যের জন্য এনবিআর হেল্পলাইন হচ্ছে- ০৯৬১১৭৭৭১১১ বা ৩৩৩। এছাড়া প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ১টি অনুলিপিসহ ট্যাক্স অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটে নিবন্ধনকৃত অ্যাকাউন্টের আইডি/ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে, প্রথমে ইউজার আইডি তারপর পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধার করতে হবে। এর জন্য ই-টিন সার্টিফিকেট করার সাইটে ই-টিন সার্টিফিকেট করার সাইটে আবার যেতে হবে।

সেখানে সরাসরি চলে যেতে হবে ফরগেট পাসওয়ার্ড মেন্যুতে। সেখানে ফরগেট মাই ইউজার নেম বাছাই করে নেক্সট-এ ক্লিক করতে হবে। তারপরের পেজে অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের মুহূর্তে প্রদানকৃত মোবাইল নাম্বারটি দিয়ে ক্যাপচা পূরণের করে নেক্সট-এ ক্লিক করতে হবে। মোবাইল নাম্বার মনে না থাকলে সাম্প্রতিক সময়ে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারগুলো দিয়ে চেষ্টা করা যেতে পারে।

যে মোবাইল নাম্বারটি টিনের জন্য আগে ব্যবহার করা হয়নি সে নাম্বারের ক্ষেত্রে ইউজার আইডি ইনঅ্যাক্টিভ মেসেজ দেখাবে। কাঙ্ক্ষিত মোবাইল নাম্বারটি পাওয়া গেলে তা প্রদানের পর নিরাপত্তা প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পেজ আসবে। এই অংশটি সাধারণত সবারই মনে থাকে, কারণ নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সাথে সম্পর্কিত খুব সহজে মনে থাকে এমন তথ্যই সবাই এখানে দিয়ে রাখে।

প্রশ্নের উত্তর সঠিক দেওয়ার পর এবার মোবাইল নাম্বার যাচাই করার জন্য প্রার্থীর মোবাইলে চার অঙ্কের একটি যাচাইকরণ কোড যাবে। এই কোডটি লিখে মোবাইল নাম্বারটি পুনরায় টাইপ করে সাবমিটে ক্লিক করতে হবে। এর সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যাবে টিন অ্যাকাউন্টের ইউজার আইডিটি।

এবার পাসওয়ার্ড বের করার জন্য আবার ফরগেট পাসওয়ার্ড মেন্যুতে যেতে হবে। তারপরের পেজে ফরগেট মাই পাসওয়ার্ড অপশনটি বাছাই করে নেক্সটে যেতে হবে। এবারে সবেমাত্র বের করা ইউজার আইডি দিয়ে ভেরিফিকেশন অক্ষরগুলো লিখে নেক্সটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীর মোবাইলে চার অঙ্কের ভেরিফিকেশন কোড যাবে। কোডটি লিখে রিকভার মাই অ্যাকাউন্ট-এ ক্লিক করার পর যে পেজটি আসবে সেখানে কমপক্ষে চারটি অক্ষর বা সংখ্যা দিয়ে বানিয়ে নেওয়া যাবে একটি নতুন পাসওয়ার্ড।

শেষাংশ
অনলাইনে ই-টিন সার্টিফিকেট করার উপায় একদম সহজ এবং ঝামেলামুক্ত, যা ডিজিটাল বাংলাদেশের একটি দারুণ প্রয়াস। টিন গ্রহণকারীদের যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে তা হলো- টিন থাকলেই যে আয়কর রিটার্ন দিতে হবে এমনটি নয়। বাংলাদেশে স্থায়ী কোন ভিত্তি নেই এমন অনিবাসি, শুধুমাত্র জমি বিক্রি বা ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার জন্য টিন নিয়েছেন অথচ করযোগ্য আয় নেই এমন নাগরিকদের টিন থাকা সত্ত্বেও আয়কর রিটার্ন দাখিলের দরকার নেই।

আরও পড়ুন

সম্পাদক: এস এম আকাশ

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

স্বত্ব © ২০২৩ কাজী মিডিয়া লিমিটেড

Designed and Developed by Nusratech Pte Ltd.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More