১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনের সামনে গুলিবিদ্ধ পুলিশ অফিসার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম খান আর নেই। বুধবার (৭ জুন) ভোরে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিনি মারা যান।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৯৪ বছর। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ৫০তম স্বাক্ষী।
নুরুল ইসলাম খানের পুত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) নাহিদ খান জানিয়েছেন, তাঁর পিতা বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন। বাদ আসর সিএমএইচ মসজিদে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম খান ১৯৩০ সালের ২ জানুয়ারি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার নয়নশ্রী ইউনিয়নে রাহুতহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি সাব ইন্সপেক্টর হিসেবে পুলিশে বিভাগে যোগদান করেন। ১৯৮৬ সালে এসপি হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। পারিবারিক জীবনে নূরুল ইসলাম খানের পাঁচ ছেলে ও চার মেয়ে।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় স্বাক্ষী হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির বাসভবনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ গার্ডের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর সাথে ঢাকা জেলা পুলিশের ইন্সপেক্টর খোরশেদ আলী ছিলেন। ভোররাতে বঙ্গবন্ধু দোতলা থেকে নিচে নেমে এসে ড্রইংরুমে টেলিফোনে কথা বলার চেষ্টা করেন। তখন একঝাঁক গুলি এসে রুমের কাঁচভেদ করে ঘরে এসে পড়ে। তখন তিনি হাউজ গাডে অবস্থানরত পুলিশদের গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণ পর গুলিবর্ষণ বন্ধ হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু আবার দোতলায় চলে যান। এরপর শেখ কামাল ড্রইংরুমে আসেন। এসময় হঠাৎ কালো ও খাকি পোষাকের ৫/৬ জন আর্মি এসএমজি নিয়ে বাড়ির গেট ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। আমাদের হ্যান্ডসআপ বলে। তখন শেখ কামাল অবাক হয়ে বলেন আমি শেখের ছেলে শেখ কামাল। তখন গুলি চালিয়ে শেখ কামালকে হত্যা করে। আমার পায়ে এবং মহিতুলের হাতে গুলি লাগে। আমাদেরকে বাড়ির ভেতরে লম্বালম্বিভাবে লাইনে দাঁড় করায়। আহত অবস্থায় আমি দাঁড়িয়ে থাকি। আমার পাশে সাদা পোশাকে দাঁড়িয়ে থাকা এসবি পুলিশের এসআই ছিদ্দিকুর রহমানকে বুকে গুলি করে হত্যা করে ঘাতকেরা। বাসার গেট থেকে শিশু শেখ রাসেলকে নিয়ে গিয়ে বাড়ির ভেতরে গিয়ে ঘাতকেরা হত্যা করে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবার পরিজনদের নৃশংসভাবে হত্যার পর আহত অবস্থায় ধানমন্ডি থানায় প্রথম বঙ্গবন্ধু হত্যার ডায়েরি করেন নুরুল ইসলাম খান। পরে ধানমন্ডি থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্যতম স্বাক্ষী দেওয়ার জন্য তাঁর ওপর দুইবার আক্রমণ হয়। প্রথমবার আক্রমণে পুলিশের জিপে দুর্ঘটনা ঘটানো হয় সেখান থেকে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু পরবর্তী সময় ১৯৯৯ সালে সাক্ষ্য দিয়ে ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা গাজীপুরে তার ওপর আক্রামণ চালায় এবং ইট দিয়ে মাথা থেতলে দেয়। ২১ দিন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
তার লেখা বই মুক্তিযুদ্ধ এবং আমি এক যুগান্তকারী রচনা।
আফ/দীপ্ত নিউজ