
‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’—লিখে এসিল্যান্ডের ফেসবুক পোস্ট

‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবে’ মর্মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন জামালগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমান শান্ত।
এমন পোস্ট দেখে পুলিশসহ অন্যরা ছুটে যান সহকারী কমিশনারের (এসিল্যান্ড) বাসায়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
এরপর জামালগঞ্জ উপজেলার ‘অসুস্থ’ এসিল্যান্ড আরিফুর রহমানকে নেওয়া হয় সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। পরে নেওয়া হয় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা নিয়ে গেছেন পরিবার সদস্যরা।
আরিফুর রহমান প্রায় ২ মাস হয় জামালগঞ্জে এসিল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরে বসবাস করেন।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদক বলেন, এসিল্যান্ড মানসিকভাবে খুবই অসুস্থ। কাল রাতে উপজেলার সদরে যা ঘটেছে, তা সবাই দেখেছেন।
ফেসবুক পোস্টে কেন এসিল্যান্ড আপনার কথা লিখলেন, এমন প্রশ্নে শিল্পী রানী মোদক বলেন, ‘এটা আমারও প্রশ্ন। আমি নিজেও বুঝতে পারছি না। পোস্ট দেওয়ার ৬ মিনিট আগেও তিনি আমার বাসায় ছিলেন। উনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর কথা বলি, এরপর সংবাদ সম্মেলনে করে বিস্তারিত জানাব।’
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইউএনও জানান, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইউএনও‘র ৩ বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিন ছিল। রাতে কেক কাটার আয়োজনে এসিল্যান্ড স্ত্রীসহ তাঁর (ইউএনও) বাসায় উপস্থিত হন। বাসা থেকে বের হয়েই তিনি ফেসবুকে পোস্ট দেন। এরপর অনেকেই এসিল্যান্ডের বাসায় যান। পুলিশও আসে।
বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। তখন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকও আসেন। তাঁকে ওষুধ দেওয়ার পরও তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। তখন স্ত্রী তাঁকে সিলেট নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাতেই তাঁকে প্রথমে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে নেয়া হয় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শে আজ শনিবার স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজন তাঁকে ঢাকা নিয়ে রওনা হয়েছেন।
এসিল্যান্ড আরিফুর রহমানের স্ত্রীর বরাত দিয়ে ইউএনও জানতে পেরেছেন, আরিফুরের মানসিক সমস্যা আগে থেকেই।
এ ছাড়া ৩ দিন আগে জামালগঞ্জে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ওই লাশ দেখার পর থেকেই নাকি তিনি ট্রমাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। ওই অবস্থাতেই গতকাল রাতে এসিল্যান্ড একজন আনসার সদস্যকে মারধর করেন। তাঁর (ইউএনও) মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। রাস্তায় যাঁকেই পেয়েছেন তাঁর সঙ্গেই অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।
ফেসবুকে এসিল্যান্ডের পোস্ট দেখে তাঁর বাসায় গিয়েছিলেন জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী।
তিনি বলেন, এসিল্যান্ড আরিফুরকে মানসিকভাবে অসুস্থ মনে হয়েছে। তখন সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধিসহ আরও অনেকে সেখানে ছিলেন। স্ত্রীর কথামতো এসিল্যান্ডকে একটা ঘুমের ওষুধ এনে খাওয়ানো হয়। কিন্তু এটির পাওয়ার কম থাকায় কাজ হচ্ছিল না। এরপর একটি ইনজেকশনের দিতে বলা হলেও সেটি পাওয়া যায়নি। এরপর রাত একটার দিকে তাঁকে সিলেট পাঠানো হয়।
এসিল্যান্ডের এমন কাণ্ড জামালগঞ্জে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার পর থেকে তাঁর দাপ্তরিক মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ।
বিষয়টি রাতেই জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন ইউএনও শিল্পী রানী মোদক।
এসএ






এই সংবাদে মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ আছে।