দুই বছরের বিরতি শেষে আবারও দর্শকদের সামনে আসছে দীপ্ত টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘বকুলপুর’। নতুন গল্প, নতুন চরিত্র ও নতুন নির্মাতাকে নিয়ে শুরু হচ্ছে ধারাবাহিকটির তৃতীয় সিজন। ইতোমধ্যে প্রথম লটের শুটিং শেষ হয়েছে। বর্তমানে চলছে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই দীপ্ত টিভিতে শুরু হবে ‘বকুলপুর সিজন ৩’-এর প্রচার।
গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত ‘বকুলপুর’ প্রথম দুই সিজনে দর্শকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। গ্রামের তালুকদার ও মন্ডল পরিবারের দ্বন্দ্ব, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং স্থানীয় রাজনীতিকে কেন্দ্র করে এগিয়েছিল আগের গল্প। করোনার প্রভাবের মধ্যে প্রথম সিজন শেষ হয় ২৬৪ পর্বে। পরে ২০২২ সালে শুরু হয় দ্বিতীয় সিজন, যা ২০২৪ সালে ৭৮৮ পর্বে শেষ হয়।
প্রথম দুই সিজনের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন কায়সার আহমেদ। এবার পরিচালনায় পরিবর্তন এসেছে। তৃতীয় সিজন নির্মাণ করছেন হাসান রেজাউল। তবে গল্পের জায়গায় ধারাবাহিকতা থাকছে—আগের দুই সিজনের মতো তৃতীয় সিজনের গল্পও লিখেছেন আহমেদ শাহাবুদ্দীন।
নতুন পরিচালক আসার সঙ্গে সঙ্গে গল্পেও এসেছে পরিবর্তন। তৃতীয় সিজনে আগের কাহিনির সরাসরি ধারাবাহিকতা না রেখে নতুন চরিত্র ও নতুন পটভূমিতে গল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রেম-ভালোবাসার টানাপোড়েন, পারিবারিক সংকট এবং গ্রামীণ রাজনীতির পাশাপাশি এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশের গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ **যাত্রাপালা**।
নির্মাতা হাসান রেজাউল জানিয়েছেন, ‘বকুলপুর’-এর নতুন গল্পে গ্রামের মানুষের যাত্রাপালার প্রতি আগ্রহ এবং এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ঘটনা ও সংঘাত উঠে আসবে। গ্রাম্য দ্বন্দ্বের সঙ্গে যাত্রাপালার এই নতুন আবহ ধারাবাহিকটিকে আগের দুই সিজনের তুলনায় ভিন্ন মাত্রা দেবে বলে মনে করছেন নির্মাতারা।
তৃতীয় সিজনে অভিনয় করছেন দেশের পরিচিত বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী। বিভিন্ন চরিত্রে দেখা যাবে আজিজুল হাকিম, দীপা খন্দকার, তাহমিনা সুলতানা মৌ, শরাফ আহমেদ জীবন, সুষমা সরকার, সাইদুর রহমান পাভেল, উপমা, সিলভিয়া, মোস্তাফিজ শাহীন, আহমেদ গিয়াস ও পঙ্কজ মজুমদারসহ আরও অনেককে।
অর্থাৎ, তৃতীয় সিজনে একেবারে সব পুরনো শিল্পী বাদ পড়ছেন—এমন তথ্য সঠিক নয়। সাম্প্রতিক নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে বরং প্রথম দুই সিজনের বেশ কিছু অভিনয়শিল্পীর তৃতীয় সিজনেও থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে নতুন চরিত্রের পাশাপাশি পরিচিত মুখগুলোকেও নতুন গল্পে দেখা যাবে।
এদিকে ‘বকুলপুর সিজন ৩’-এর পর্বসংখ্যা এখনো নির্দিষ্ট করা হয়নি। নির্মাতার পরিকল্পনা অনুযায়ী, দর্শক যত দিন ধারাবাহিকটি পছন্দ করবেন এবং গ্রহণ করবেন, তত দিন এটি চালিয়ে নেওয়া হবে। তবে কেবল পর্বসংখ্যা বাড়ানোর জন্য গল্পকে অযথা দীর্ঘ করার পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন নির্মাতা।
প্রথম লটের শুটিং শেষ হওয়ায় এখন অপেক্ষা শুধু প্রচারের। নতুন পরিচালক, নতুন গল্প, নতুন চরিত্র এবং যাত্রাপালার সংযোজন—সব মিলিয়ে ‘বকুলপুর সিজন ৩’ আগের দুই সিজনের জনপ্রিয়তা কতটা ধরে রাখতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।