স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। এর ফলে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠনের পথ তৈরি হলো।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের তীব্র বিরোধিতার মধ্যেই জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিলটি পাস হয়।
২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ থেকে র্যাব–সংক্রান্ত বিধানগুলো বাদ দিয়ে এসআরবি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে এ বিলে। ওই অধ্যাদেশের ভিত্তিতেই র্যাব গঠনের আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছিল। সংশোধিত ওই অধ্যাদেশের অধীনে ২০০৪ সালে র্যাব গঠিত হয়। তার পর থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গুমের অভিযোগসহ বিভিন্ন সমালোচনার মুখে পড়ে বাহিনীটি।
এখন সরকার ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে এসআরবি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) জন্য পৃথক আইন প্রণয়ন করছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর সংসদে এসআরবি বিলটি উত্থাপন করা হয়। ওই সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিলটি উত্থাপনের বিরোধিতা করে বলেন, নতুন নামে কার্যত র্যাবকেই পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সংসদীয় কমিটিতে বিলটি পরীক্ষা–নিরীক্ষার সময়ও তারা আটটি বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি দ্রুত বিবেচনার জন্য সংসদে তোলেন। কিন্তু বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর পাশাপাশি পাসের আগে জনমত নেওয়ার দাবি জানান।
আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন, মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, নুরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এস কে মুজিবুর রহমান ইকবাল।
বিলে পুলিশের অধীনে এসআরবি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মকর্তা, সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীকে প্রেষণে নিয়োগ বা পদায়নের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করা হবে।
এসআরবির সদস্যদের পদমর্যাদার কাঠামো, নিয়োগপ্রক্রিয়া ও চাকরির শর্তাবলি বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। ইউনিটটির নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও নির্ধারিত পোশাক থাকবে।
এছাড়া এসআরবির মহাপরিচালক হবেন কর্মরত কোনো পুলিশ কর্মকর্তা, যার পদমর্যাদা অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) নিচে হবে না।
বিল অনুযায়ী, র্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুযোগ–সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংক স্থিতি, দায়–দায়িত্ব, চুক্তি, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার, নথিপত্র ও অন্যান্য দলিল এসআরবির কাছে হস্তান্তর করা হবে।