আগামী তিন দিন সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ৯টায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এই পূর্বাভাস দিয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর–পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকার লঘুচাপটি উত্তর–পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে মৌসুমি অক্ষের সাথে মিলিত হয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিন সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। তৃতীয় দিনে চট্টগ্রাম বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে অতি ভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। এ সময়ে সর্বোচ্চ ১১২.০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শেরপুর–সিলেট স্টেশনে। তবে উজানে ভারতে উল্লেখযোগ্য কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি।
গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি কমেছে। এই নদীগুলোর পানি আগামী ২ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরবর্তী ৩ দিন বাড়তে পারে। অন্যদিকে গঙ্গা নদীর পানি বেড়েছে এবং পদ্মার পানি স্থিতিশীল রয়েছে, যা আগামী ২ দিন বৃদ্ধি পেয়ে পরবর্তী ৩ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়েছে, তবে ধরলার পানি কমেছে। তিস্তা নদী ডালিয়া (নীলফামারী) স্টেশনে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। এসব নদীর পানি আগামী ২ দিন বাড়তে পারে।
সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি হ্রাস পেয়েছে। তবে কুশিয়ারা নদী মারকুলি (সুনামগঞ্জ) এবং ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) স্টেশনে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ১ দিন এসব নদীর পানি বাড়তে পারে।
চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সিলোনিয়া, ফেনী, সাঙ্গু এবং মাতামুহুরী নদীর পানি কমেছে। অপরদিকে হালদা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী ১ দিন এসব নদীর পানি আরও কমতে পারে এবং পরবর্তী ২ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
ঢাকার আশপাশের বুড়িগঙ্গা, বালু, ধলেশ্বরী, টঙ্গীখাল ও তুরাগ নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে এবং বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৩ দিন এসব নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় কীর্তনখোলা, লোয়ার–মেঘনা, পশুর, ইছামতি, কর্ণফুলী, লিটল ফেনী ও নোয়াখালী খাল নদীসমূহে স্বাভাবিক জোয়ার বিরাজমান আছে, যা আগামী ২ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।