জুলাই মাসে জন্ম–মৃত্যু নিবন্ধনে দেশসেরা জেলা প্রশাসক হয়েছেন ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পটুয়াখালী জেলা ১১৩.৯ শতাংশ কাজ করেছে। দেশসেরা হয়েছে এ জেলার গলাচিপা উপজেলাও।
শূন্য থেকে এক বছর বয়সী শিশুদের ওপর এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) এবং বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে জুলাই মাসে বরিশাল বিভাগ প্রথম স্থান অধিকার করেছে। নিবন্ধন কার্যক্রম লক্ষ্যমাত্রার ৭৭.৫ শতাংশ কাজ করে তারা এক নম্বরে চলে এসেছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বরিশাল বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল যথাক্রমে ১৪৮৯৬টি ও ৫০৬৪টি; যার মধ্যে অর্জিত হয়েছে ৯৮৮৩ টি ও ৪৪৮৮টি। জন্ম–মৃত্যু নিবন্ধনে অর্জনের হার ৭৭.৫ শতাংশ।
এদিকে রংপুর বিভাগ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে, যার অর্জন ৬৫.৮ শতাংশ।
জেলা ক্যাটাগরিতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে ১১৩.৯ শতাংশ কাজ করে প্রথম হয়েছে পটুয়াখালী জেলা। এ জেলার জন্ম নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬৯২টি, তারা করেছে ২১৯৯টি। মৃত্যু নিবন্ধনের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৩০টি, তারা করেছে ১০৬৭টি। জন্ম–মৃত্যু নিবন্ধনে পটুয়াখালীর জেলার অর্জন ১১৩.৯ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খুলনা জেলা। জন্ম–মৃত্যু নিবন্ধনে তাদের অর্জন ১০৩.৬ শতাংশ।
জুলাই মাসে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার জন্ম নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২৮টি। তবে এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অর্জন হয় ৬৩৭টি। মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১৬টি, অর্জিত হয়েছিল ৩১৮টি। শতাংশের হিসাবে অর্জন ২৭৪ শতাংশ। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন গড়ে ২১১.৫ শতাংশ; যেটা ছিল সারা দেশের মধ্যে শীর্ষ স্থানে। উপজেলা পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলা। জন্ম–মৃত্যু নিবন্ধনে যাদের অর্জন শতকরা ১৩০শতাংশ।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, ‘দেশসেরা হওয়ায় আমি আনন্দিত। জেলা প্রশাসক স্যার ও ডিডিএলজি স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাদের সঠিক নির্দেশনা ও দূরদর্শিতায় এ ফলাফল সম্ভব হয়েছে।’
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এ ক্রেডিট পুরো জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল এটি। একেবারে, রুট লেভেলের গ্রাম পুলিশ থেকে শুরু করে ডিডিএলজি সকলেই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছেন। আমি সত্যিই আনন্দিত। একজন পেশাদার আমলা হিসেবে এভাবেই যেন সরকারের দেয়া সকল দায়িত্ব ভবিষ্যতেও পালন করতে পারি, সকলের নিকট সে বিষয়ে দোয়ার প্রত্যাশী।’
বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) ও পরিচালক, স্থানীয় সরকার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আহসান হাবিব বলেন, ‘জন্ম–মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে সারা দেশের মধ্যে বরিশাল বিভাগ, পটুয়াখালী জেলা ও গলাচিপা উপজেলা প্রথম হওয়া সত্যি সুখের খবর। জন্ম–মৃত্যু নিবন্ধনে এ অঞ্চলের মানুষের আগ্রহ কম। সেই জায়গা থেকে ডিসি, ইউএনও ও জনপ্রতিনিধিদের পারস্পরিক সহযোগিতায় আমরা এ কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’
জন্ম–মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে শতভাগ সফলতা আনতে প্রতি মিটিংয়েই জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয় বলেও জানান মো. আহসান হাবীব।