বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান সহজ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে ৩৪টি ক্যাটাগরি নিয়ে ‘ভিসা নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন এ নীতিমালার আওতায় আগের সব ভিসাসংক্রান্ত সার্কুলার বাতিল করে একটি সমন্বিত ও আধুনিক ভিসা কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিমালাটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান সহজ ও সুশৃঙ্খল করা, বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নতুন ভিসা নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা, পারস্পরিকতা নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক ও সেবামুখী অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, বিদ্যমান ‘ভিসা নীতিমালা, ২০০৬’-এ ভিসার ক্যাটাগরি ছিল ৩৩টি। নতুন ‘ভিসা নীতিমালা ২০২৬’-এ একটি ক্যাটাগরি বাড়িয়ে মোট ৩৪টি করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালার ভিত্তিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি সমন্বিত ও আধুনিক ভিসা কাঠামো তৈরি করা হবে। এ কাঠামোর মাধ্যমে বিদ্যমান ভিসা ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী, নিরাপদ, গতিশীল ও সেবামুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নীতিমালাটি বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আরও জানিয়েছে, গত ২ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ভিসা নীতিমালা ২০২৬’ উপস্থাপন করা হয়েছিল। পরে নীতিমালাটিকে আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর করার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির পর্যালোচনার পর সংশোধিত নীতিমালাটি সোমবারের বৈঠকে আবার উপস্থাপন করা হলে তা অনুমোদন দেওয়া হয়।
সরকারের প্রত্যাশা, নতুন এ নীতিমালার মাধ্যমে বিদেশিদের জন্য বাংলাদেশের ভিসা ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও কার্যকর হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ, ব্যবসা, পর্যটন, দক্ষ জনশক্তি এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে উঠবে।