কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত দুর্নীতির সংবাদকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। গত ৬ আগস্ট “কমিশন ছাড়া বিল ছাড়েন না হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা” শিরোনামে প্রকাশিত ওই সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একটি প্রতিবাদলিপি দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, যাচাই–বাছাই ছাড়া প্রকাশ করা এই মিথ্যা সংবাদের ফলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিএমএসডি’র ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
প্রকাশিত সংবাদে অভিযোগকারী হিসেবে ‘মেডিকিট করপোরেশন’–এর নাম উল্লেখ করা হলেও, প্রতিবাদলিপিতে জানানো হয়, বিগত তিন বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সিএমএসডি–তে কোনো কাজ করেনি বা কোনো বিলও গ্রহণ করেনি। ফলে তাদের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। উপরন্তু, মেডিকিট করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী গত ৯ আগস্ট সিএমএসডি’র পরিচালক বরাবর একটি পত্র দিয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, এই সংবাদের সঙ্গে তাদের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই।
সিএমএসডি’র হিসাব শাখার নিয়ম অনুযায়ী এককভাবে কারও বিল আটকে রাখা বা পাস করার সুযোগ নেই বলে জানানো হয়। একটি বিল পাসের ক্ষেত্রে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার যাচাইয়ের পর পর্যায়ক্রমে ফিন্যান্স অ্যান্ড বাজেট অফিসার, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন), উপপরিচালক এবং পরিচালকের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ছাড়া আরও পাঁচজনের স্বাক্ষরে বিল পাস হয়। এক্ষেত্রে কমিশন নেওয়ার জন্য বিল আটকে রাখার কোনো প্রমাণ বা অভিযোগ সিএমএসডি কর্তৃপক্ষের কাছে আসেনি।
সংবাদে ৭৯ কোটি টাকার ভুয়া বিল পাস করে ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবাদলিপিতে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, উক্ত বিলগুলো ২০২০ সালের কোভিড–১৯ কালীন সময়ের। দীর্ঘদিনের বকেয়া এই বিলগুলো মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (সিপিটিইউ), আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং স্বাস্থ্য অডিট অধিদপ্তরের যাচাই–বাছাই ও মতামতের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ছাড় করা হয়েছে। বিলের টাকা সরাসরি সরবরাহকারীর ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। এখানে কোনো ভুয়া বিল পরিশোধের ঘটনা ঘটেনি।
প্রতিবাদলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক বা তার স্ত্রীর নামে দেশের কোথাও কোনো ফ্ল্যাট, প্লট বা ব্যাংকে অবৈধ জমানো টাকা নেই। তিনি কেবল নিজের বেতনের টাকায় সাদামাটা জীবনযাপন করে থাকেন। এই ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে তাকে পারিবারিক, সামাজিক ও দাপ্তরিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ন্যায়বিচারের জন্য সিএমএসডি‘র পরিচালক বরাবর আবেদন করেছেন।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন এই সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সিএমএসডি কর্তৃপক্ষ।