বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
UPCOMING

FIXTURES

FIFA 2026 NEXT MATCH
MATCH -- ROUND -
- - -
VS
- - -
KICK OFF:
Processing...
বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

আজ ১৬ জুলাই, ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস। ২০২৪ সালের এই দিনে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ অন্তত ছয়জন নিহত হন।

পুলিশের গুলির সামনে আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। পরে কোটা সংস্কারের আন্দোলন সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, শোক ও কৃতজ্ঞতা জানানো এবং দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সারাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি আন্দোলনে আহত সেই সব সাহসী তরুণতরুণী ও যুবপ্রজন্মকে, যাঁদের অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করে আজও যন্ত্রণাময় জীবনযাপন করছেন। একই সঙ্গে গভীর সমবেদনা জানাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি, যাঁরা আপনজন হারানোর গভীর শোক বুকে ধারণ করেও অসীম ধৈর্য ও সাহসের পরিচয় দিয়ে চলেছেন।

জুলাই যোদ্ধা ও গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব দেশপ্রেমিক নাগরিকের ত্যাগ ও অবদানও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দুর্নীতি, গুমখুন, ভোটাধিকার হরণ, নিপীড়ন ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আপামর জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ। এই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক আন্দোলন ও অর্জন নয়; এটি ছিল গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফসল।

তিনি আরও বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মদান স্মরণ করিয়ে দেয় যে রাষ্ট্রের শক্তির উৎস এবং সর্বময় ক্ষমতার মালিক জনগণ।

পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “১৬ জুলাই আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ। এদিন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রাণঘাতী শক্তির নির্মম প্রয়োগ এবং ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র অথচ অদম্য সাহসী ছাত্রজনতা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল।

তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ আবু সাঈদের দৃশ্যটি কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না; এটি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জুলাইয়ের সেই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ফ্যাসিবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, লুণ্ঠন, গুম, খুন, দমনপীড়ন এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ।

তিনি বলেন, সেই আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের শক্তিতেই বাংলাদেশের মানুষ তাদের মর্যাদা, অধিকার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নতুন করে প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর বর্তমান সরকার শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের পথ ধরেই দেশ বর্তমানে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, “সব নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমেই আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে পারি।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More