রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই অভ্যুত্থানে তরুণকে গুলি ও দুজনকে হত্যা

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি এবং আরও দুজনকে হত্যার দায়ে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া আরও দুই আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালএর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেনডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। রায় ঘোষণার সময় তিন আসামিই পলাতক ছিলেন।

এছাড়া রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গ্রেফতার একমাত্র আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বনশ্রী এলাকায় মো. নাদিম হোসেনকে গুলি করে হত্যা, একই দিন নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি ও গুরুতর আহত করা এবং ওইদিন বিকেলে বনশ্রীতে সাত বছর বয়সী শিশু বাসিত খান মুসার মাথা ভেদ করে চলে যাওয়া গুলিতে তার দাদি মায়া ইসলামকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সবকটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই এই বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩১ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল এবং ১৮ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারকার্য শুরু হয়। গত ২৩ অক্টোবর থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ৩ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ মার্চ রায় ঘোষণার দিন স্থগিত হলেও, সবশেষ ১৫ জুন ট্রাইব্যুনাল আজকের দিনটি রায় ঘোষণার জন্য পুনর্ধার্য করেছিলেন।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More