মঙ্গলবার, মে ১৯, ২০২৬
মঙ্গলবার, মে ১৯, ২০২৬

আনসার-ভিডিপি সদস্যদের হাত ধরে প্রতিটি গ্রাম উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিণত হবে: প্রধানমন্ত্রী

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আনসারভিডিপির গর্বিত সদস্যদের হাত ধরে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম আর্থসামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্যের সাহস ও নিষ্ঠা হোক আগামী দিনের পাথেয়। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৯ মে) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশের এই শুভলগ্নে প্রধানমন্ত্রী বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং তৃণমূলের অকুতোভয় আনসারভিডিপি সদস্যসদস্যাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানান। একই সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী এই বাহিনীর ৬৭০ জন শহিদের প্রতি তিনি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যেকোনো প্রয়োজনে এই বাহিনীর সদস্যদের সময়োপযোগী ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে, ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। তাদের এই দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য তিনি বাহিনীর সর্বস্তরের প্রতিটি সদস্যকে আবারও অভিনন্দন জানান। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের পর বাংলাদেশ নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। দেশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। একটি স্বনির্ভর, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার এই যাত্রাপথে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম।

তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গর্বিত উচ্চারণ—‘আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার, অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার’ এবং গণপ্রতিরক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের ধারণায় গড়ে ওঠা এই বাহিনীর রয়েছে দেশের প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত এক শক্তিশালী সেতুবন্ধন। গ্রাম ও শহরে সুরক্ষিত সমাজ কাঠামো গঠন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং বহুবিধ সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নে আনসারভিডিপি সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করছে। বিজ্ঞানভিত্তিক পরিবেশ সুরক্ষা, কৃষি অর্থনীতির বিকাশে খাল খনন, বন্যা থেকে সুরক্ষা, পানিসম্পদ পরিকল্পনা ও দুর্যোগকালীন পুনর্বাসনের মতো অনন্য কার্যক্রমেও এই বাহিনী অপরিসীম ভূমিকা পালন করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে শিল্পকারখানা, হাসপাতাল ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫২ হাজারের বেশি অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে তারুণ্যই শক্তির উৎস। যুবসমাজকে নিছক জনশক্তি নয়, বরং দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আনসার ও ভিডিপি যে সুনির্দিষ্ট চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে দেশ গড়ার পবিত্র দায়িত্বে তাদের সাহসী ও কার্যকর ভূমিকার প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More