বাগেরহাটে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী পরিবহনের চালক এবং সাধারণ যাত্রীরা। ডিজেলের ঘাটতির কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না পরিবহন চালকরা। এতে একদিকে যেমন পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ট্রাকে বহন করা বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক ট্রাক ও বাস মাঝপথেই থেমে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কখনও আবার বিকল্প পরিবহন না পেয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। এমন পরিস্থিতে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষজন পড়ছেন চরম বিপাকে।
পণ্যবাহী ট্রাক চালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমি বাগেরহাট থেকে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য লোড করে কক্সবাজারের চকরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি। বাগেরহাট থেকে চকরিয়া যেতে আমার প্রয়োজন ১১০ লিটার ডিজেল। কিন্তু পাম্প থেকে আমাকে ১০ লিটারের বেশি ডিজেল দিচ্ছে না। এ অবস্থায় আমাকে একাধিক পাম্প থেকে তেল নিতে হচ্ছে। যার কারণে আমি সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে পারছি না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক সময় ট্রাকে থাকা পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বাগেরহাটের বাস চালক মো. সরোয়ার বলেন, ডিজেলের সংকটের কারণে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস চালানো সম্ভব হচ্ছে না। মাঝপথে একাধিক পাম্পে তেল নিতে সিরিয়ালে দাঁড়াতে হচ্ছে। যার কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না যাত্রীরা। এতে অনেক সময় যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের ওপর চড়াও হচ্ছেন।
এদিকে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিমাণে ডিজেল সরবরাহ করা হলেও অকটেন ও পেট্রোলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও অল্প পরিমাণে অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ করা হলেও চাহিদার তুলনায় তা খুবই কম হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই ফুরিয়ে যাচ্ছে। ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পেরে ফিরে যেতে হচ্ছে।
এনজিও কর্মী ও মোটরসাইকেল চালক মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলাম, আমার কর্মস্থল চাঁদপুরে। ছুটি শেষ হয়ে গেছে, অফিস থেকে বারবার ফোন দিচ্ছে, কিন্তু যেতে পারছি না। অকটেন বা পেট্রোল পাওয়া এখন খুব কঠিন হয়ে গেছে। কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাওয়া যায় না। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান দরকার।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, তেলের সংকটের জন্য আমরা সাধারণ মানুষও অনেকটা দায়ী। অনেকেই তেল কিনে অবৈধভাবে মজুদ করছেন বাড়তি লাভে বিক্রির আশায়। এছাড়া প্রয়োজন না থাকলেও কেউ কেউ গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করে রাখছেন, যার কারণে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে তদারকি শুরু করেছি। যারা অবৈধভাবে তেল মজুদ করছে, তাদের চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হবে।
মামুন