বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ প্রকাশ

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বুধবার বিকেলে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ শীর্ষক ইশতেহার প্রকাশ করেছে।

দলের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, এই ইশতেহার জাতির প্রতি তাদের একটি প্রতিজ্ঞা, যা বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্র গঠন, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং নাগরিক সেবার মান উন্নত হবে।

ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত ৮ দফা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ৬ দফা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিমালা, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

ক্ষমতার হস্তান্তর গণতান্ত্রিকভাবে করা হবে, যাতে নির্বাহী আধিপত্য ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সীমিত থাকে। এছাড়া, সকল ধর্ম ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির অধিকার রক্ষা, নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও বৈষম্য দূরীকরণ এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিস্তৃত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে উল্লেখ আছে, রপ্তানি বহুমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে, স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো হবে, আর্থিক খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা হবে এবং বৈদেশিক ঋণ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বিশেষভাবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নগদ সহায়তা, প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর খাবার, যুবদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে ইশতেহারে বলা হয়েছে, নৈতিকতা ও কর্মমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। মাদরাসা ও কওমী শিক্ষাকে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার মান উন্নত করা হবে এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

নাগরিক সুবিধা ও শহরগ্রাম উন্নয়নেও ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নগর ও গ্রামীণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ, পানি, পরিবহন, যোগাযোগ এবং ডিজিটাল সেবা সহজলভ্য করা হবে। প্রান্তিক, দুর্গম ও চরাঞ্চলে সরকারি সেবা প্রসার করা হবে এবং নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

ইশতেহারে ১২ দফা বিশেষ কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দরিদ্রদের জন্য নগদ সহায়তা, প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর খাবার, যুবদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ, সার্বজনীন স্বাস্থ্যকার্ড, ন্যাশনাল জব পোর্টাল, নারী কর্মীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা, সেবা কেন্দ্রিক কর ব্যবস্থা এবং কওমী সনদের স্বীকৃতি ও ওলামাদের রাষ্ট্রীয় পদায়ন।

পীর চরমোনাই বলেন, ‘বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের নীতিমালা সর্বত্র প্রাধান্য পাবে। আমাদের লক্ষ্য দুর্নীতি, দুঃশাসন ও সন্ত্রাসমুক্ত কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করা, যাতে জনগণের জীবনমান উন্নত হয় এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।’

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More