সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬
সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬

ঘরে ঘরে মাথাব্যথা, চোখে ব্যথা এবং ঘাড় ব্যথা কিসের ইঙ্গিত

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
ঘরে ঘরে মাথাব্যথা, চোখে ব্যথা এবং ঘাড় ব্যথা

কিছুদিন ধরে অফিস, বাসা, আড্ডা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেকেই অভিযোগ করছেন, “মাথাটা ফেটে যাচ্ছে“, “চোখের পেছনে কী যে ব্যথা“, “ঘাড়টা এমন ধরে গেছে যে ঘোরানোই যাচ্ছে না।অনেকেই ভাবছেন, এটা কি শুধু ঠান্ডা লাগা? নাকি নতুন কোনো ভাইরাস?

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দেবাশিশ রঞ্জন গত তিন দিন ধরেই এমন সমস্যায় ভুগছেন।

টানা তিন দিন ধরে ভয়ংকর মাথাব্যথা। চোখের চারপাশে চাপ আর ঘাড়ে টান। কোন কাজ করতে পারছি না। মাথার ভেতর কেমন একটা অস্থিরতা কাজ করে,” বলছিলেন তিনি।

সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার, দেবাশিশ জানিয়েছেন তার রক্তচাপ স্বাভাবিক আছে, ঘুমও ঠিকঠাক হচ্ছে, তবু ব্যথা কমছে না। এরপর দেখলাম, আমার স্ত্রীরও একই উপসর্গ শুরু হয়েছে। তখনই মনে হলো, বিষয়টা হয়তো ভাইরাসজনিত।

দেবাশিশ একা নন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসকদের চেম্বারে প্রতিদিনই এমন উপসর্গ নিয়ে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।

নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ডা. জোনায়েদ রহিম বলছেন, গত কিছুদিন ধরেই তিনি মাথা, ঘাড় আর চোখ ব্যথার সমস্যা নিয়ে রোগী পাচ্ছেন বেশি।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা ভাইরাসজনিত সংক্রমণের উপসর্গ। তবে এবারের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, অনেক রোগী খুব বেশি জ্বর নিয়ে আসছেন, যেটা কোভিডের শুরুর দিকটায় ছিলো। সেইসাথে রোগীরা মাথা, ঘাড় আর চোখ ব্যথার কথাও বলছেন,” বলছিলেন মি. রহিম।

এক্ষেত্রে চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা বুঝে যেমন জ্বর হলে প্যারাসিটামল, অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে অ্যান্টিহিস্টামিন ‌এবং জ্বর ৪/৫ দিনের বেশি হলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসস্ক্রাইব করছেন।

তবে ডা. জোনায়েদ জোর দিয়ে বলছেন, “ওষুধ অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে।

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টা রোদের তীব্রতা কম থাকায় অনেক ক্ষেত্রে ভিটামিন ডিএর অভাব দেখা দেয় এবং গায়ে ব্যথা করে।

নতুন কোনো ভাইরাস?

জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরএর সংযুক্ত চিকিৎসক ডা. মোনালিসা বলছেন, মাথা, চোখ আর ঘাড় ব্যথা ভাইরাল জ্বরের পরিচিত উপসর্গ।

এটা একেবারে নতুন কিছু নয়,” বলছিলেন তিনি।

এই সময়টায় বাতাসে আরএসভি বা রেসপিরেটরি সিনসিশিয়াল ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ে। এই ভাইরাস সরাসরি শ্বাসতন্ত্রে আঘাত করে। উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয় মাথাব্যথা, ঘাড়ে ব্যথা, চোখে ব্যথা, গলা ব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া আর জ্বর।

ইনফ্লুয়েঞ্জা, রাইনোভাইরাস বা অ্যাডিনোভাইরাস সবই আরএসভি এর বিভিন্ন ধরন। ইনফ্লুয়েঞ্জা সাধারণত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেশি দেখা যায়। অন্য ভাইরাসগুলো নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সক্রিয় থাকে।

তবে এখন হঠাৎ করে এই উপসর্গগুলো বেড়ে যাওয়ার পেছনে ভাইরাসের কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলার আগে পরীক্ষানিরীক্ষা দরকার বলে মনে করেন ডা. মোনালিসা।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More