রবিবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
রবিবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২৬

তথ্য অধিকার আইন জনগণ সকল কর্তৃপক্ষের উপর প্রয়োগ করতে পারে

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক
তথ্য অধিকার আইন

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ দেশের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ আইন। এই আইন দ্বারা একদিকে নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে কর্তৃপক্ষকেও যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ এবং স্ব:প্রণোদিতভাবে তথ্য প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন একমাত্র আইন যেটা জনগণ সকল কর্তৃপক্ষের উপর প্রয়োগ করতে পারে। তবে আইনটি প্রণয়নের দীর্ঘ দেড় দশক অতিবাহিত হলেও কাঙ্খিত পর্যায়ে এর সুফল প্রাপ্তি সম্ভব হয়নি।

আইনটি সম্পর্কে জনসচেতনতার অভাব এবং তথ্য প্রাপ্তির বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। তথ্য অধিকার ফোরাম মনে করে, আইনটির ব্যবহার বাড়াতে ও কাঙ্খিত পর্যায়ে আইনের সুফল অর্জন করতে আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা জরুরী।

তথ্য অধিকার ফোরাম, তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর বিভিন্ন ধারার উপর ৩৭টি সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করে ২০২৫ সালের ৬ মার্চ একটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করে এবং একই দিন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সমীপে প্রেরণ করে।

ফোরাম জানতে পেরেছে উপদেষ্টা পরিষদ তথ্য অধিকার আইন ২০০৯এর সংশোধনকল্পে একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে।

এ পর্যায়ে ফোরামের দৃষ্টিতে বিবেচ্য নিম্নে বর্ণিত অতি জরুরী সংশোধনীসমূহ তথ্য অধিকার আইন ২০০৯এর সংশোধনীকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশে অর্ন্তভূক্ত করার জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে:

. তথ্যের সংজ্ঞা: নথির নোট সিট পর্যালোচনা করার মাধ্যমেই কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নথি পরিচালনকারী প্রত্যেক কর্মকর্তা বা কর্মচারী কে, কি, ভূমিকা পালন করেছেন তা স্পষ্ট বুঝা যায়। কাজেই উপধারা ২()-এ তথ্যের সংজ্ঞায় নোট সিট অন্তর্ভুক্ত করা।

. কর্তৃপক্ষের আওতা বৃদ্ধি:

# উপধারা ২()()-তে সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান এর পাশাপাশি সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত, বা স্থানীয় সরকার সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান শব্দগুলো যুক্ত করা।

# ধারা ২ () ()-তে নিম্নোক্ত সংশোধন আনা

সরকারের পক্ষে অথবা সরকার বা সরকারী কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সহিত সম্পাদিত চুক্তি বা উল্লিখিত কোন সরকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স, পারমিট, অনুদান, বরাদ্দ, সম্মতি বা অনুমোদনের শর্ত মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন বেসরকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশন দ্বারা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল

. তথ্য কমিশন: ধারা ১১()-এ তথ্য কমিশন এর পরে বাংলাদেশ শব্দটি যুক্ত করা।

. প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগণের নিয়োগ, মেয়াদ, পদত্যাগ, ইত্যাদি: নতুন উপধারা সংযোজন ১৫() প্রধান তথ্য কমিশনার বা তথ্য কমিশনারগণের পদ শূন্য হইলে সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যে প্রধান তথ্য কমিশনার বা ক্ষেত্রমত, তথ্য কমিশনার নিয়োগ করিতে হইবে।

. তথ্য কমিশনারগণের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক ও সুবিধাদি: ধারা ১৭তে অন্যান্য কমিশন বিশেষত: জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগণের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক, ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি যথাক্রমে আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের অনুরূপ নির্ধারিত করা।

.জরিমানা: আপীল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনার লক্ষ্যে ধারা ২৭এ নিম্নোক্ত সংশোধন আনা

২৭ () কোন অভিযোগ নিষ্পত্তির সূত্রে কিংবা অন্য কোনভাবে তথ্য কমিশনের যদি এই মর্মে বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, কোন আপীল কর্মকর্তা⎯

() কোন যুক্তিগ্রাহ্য কারণ ছাড়াই তথ্য প্রাপ্তির কোন অনুরোধ বা আপীল গ্রহণ করিতে অস্বীকার করিয়াছেন;

গুরুত্বের বিবেচনায় যদিও অধ্যাদেশে অতি জরুরী প্রস্তাবনাগুলো অর্ন্তভূক্ত করার কথা বলা হয়েছে, আইনটির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অন্যান্য প্রস্তাবনাগুলোকেও বিবেচনায় নিয়ে একটি পুর্ণাঙ্গ সংশোধনী আনা প্রয়োজন বলে তথ্য অধিকার ফোরাম মনে করে। যা আইনের মূল প্রস্তাবনার লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

তথ্য অধিকার ফোরাম কতৃক ৩৭টি সংশোধনী প্রস্তাবের লিংকhttps://mrdibd.org/wp-content/uploads/2026/01/Proposed-Amendment-of-RTI-Act.pdf

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More