পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ–জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বৈসাবীকে ঘিরে পাহাড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধা সাড়ে ৬ টায় পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ–জনগোষ্ঠীদের প্রধান সামাজিক ধর্মীয় উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু ও বিহু উপলক্ষে রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ–গোষ্ঠীর ইনস্টিটিউট মাঠ প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু ও বিহু মেলা উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে বৈসাবীর উৎসব উদ্বোধন করা হবে।
১২ এপ্রিল থেকে বৈসাবীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও এপ্রিলের শুরু থেকেই পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় বৈসাবীর আনুষ্ঠানিকতা। বৈসাবীতে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ক্ষুদ্র নৃ–গোষ্ঠীর ইনস্টিটিউটের আয়োজেনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সাত দিনব্যাপী বিজু, সাংগ্রাই. বৈসুক, বিষু ও বিহু মেলার উদ্বোধন করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, জেলা পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ সচিব) খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ–গোষ্ঠীর ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুনেল চাকমাসহ অন্য অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন।
সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু ও বিহু মেলায় ৩ এপ্রিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছে আলোচনা সভা, শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের বাদ্যবাজনা, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়া, খিয়ং, লুসাই, অহমিয়া, গুর্খা এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনায় সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন।
৪ এপ্রিল বিকেলে চাকমা ভাষা ও বর্ণমালা বিষয়ক প্রতিযোগিতা, ঘিলা খেলা (চাকমা), আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
৫ এপ্রিল–ঘিলা খেলা (তঞ্চঙ্গ্যা), ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরী করা প্রতিযোগিতা, চাকমা নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
৬ এপ্রিল–মহিলাদের খেলাধুলা প্রতিযোগিতা, তঞ্চঙ্গ্যা নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
৭ এপ্রিল–শিশুদের প্রতিযোগিতা, আকর্ষণীয় খেলাধুলা– নাদেং, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন জাতি–গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
৮ এপ্রিল–চাকমা ভাষা ও বর্ণমালা বিষয়ক প্রতিযোগিতা (উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক শ্রেণি।
৯ এপ্রিল–পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী পাজন রান্না প্রতিযোগিতা এবং রাঙ্গামাটির জনপ্রিয় ব্যান্ড শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।