বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) আগামী সোমবার বক্তব্য দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচন কমিশন বিটিভি মহাপরিচালককে এ সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছে।
আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রধানদের বক্তব্য প্রচারের জন্য স্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আশাদুল হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারণার ক্ষেত্রে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিটিভিতে দলীয় প্রধানের নির্বাচনী প্রচারের স্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণের কথাও চিঠিতে বলা হয়। এক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা, ২০২৫–এর বিধি ৬ (জনসভা, পথসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠান)-এর উপবিধি (গ)-এর অনুসরণে লিখিত আবেদন প্রাপ্তির সময়ের ক্রমানুসারে স্লট নির্ধারণ করতে হবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া বিটিভি কর্তৃক প্রতি রাজনৈতিক দলের প্রধানের জন্য স্লট বরাদ্দ এবং স্লটের মেয়াদ নির্ধারণ করতে হবে। প্রচারণা রেকর্ডিংয়ের তারিখ ও সময় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে বিটিভি নিষ্পত্তি করবে বলেও জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেসব রাজনৈতিক দল বিটিভিতে প্রচারণার সুযোগ চাইবে, তাদের আবেদনের সময়ের ক্রমানুয়ায়ী বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দিতে হবে। তবে বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দল হতে আবেদন পাওয়া যায়নি। তাই বিএনপির দলীয় প্রধানকে তাদের চাহিদা মোতাবেক ৯ ফেব্রুয়ারি শেষ স্লটে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশন বিটিভিকে বলেছে।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি দল প্রার্থী দিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে তারা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চালাতে পারবেন।
এবার বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সর্বোচ্চ ২৯২ জন ভোটের মাঠে রয়েছেন। এরপর আছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, দলটির প্রার্থী সংখ্যা ২৫৩। এই হিসাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংখ্যায় তৃতীয় সর্বোচ্চ। আর জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোট ২২৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির ১৯২ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৯০ জন এবং এনসিপির ৩২ জন প্রার্থী ভোটে রয়েছেন।
এর আগে ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে প্রচারণার শেষ সময়ে এসে প্রধান কয়েকটি দলের প্রধানদের বক্তব্য প্রচার করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের আগেও দলীয় প্রধানদের বক্তব্য প্রচার করা হয়। সূত্র বাসস