ইরান যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটানো এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়। এটি গত এক বছরে পেন্টাগনের ব্যয়ের তুলনায় ৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সর্বোচ্চ সামরিক বরাদ্দের রেকর্ড।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুদ্ধদ্বার কংগ্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে যে ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের খরচ প্রায় ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও অস্ত্রের ঘাটতি পূরণ এবং সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতেই ট্রাম্প এই বর্ধিত বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এই বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট সামাল দিতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ জনকল্যাণমূলক খাতে বড় ধরনের কাটছাঁটের প্রস্তাব দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এতে পরিবেশ রক্ষা, আবাসন সহায়তা ও শিক্ষা খাতের মতো কর্মসূচিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া ডে–কেয়ার ও মেডিকেয়ারের মতো সামাজিক খাতের ব্যয়ভার রাজ্য সরকারগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। এক বিবৃতিতে দলটি জানায়, আমেরিকার জনগণ স্বাস্থ্যসেবা চায়, যুদ্ধ নয়। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে এক হঠকারী যুদ্ধে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অপচয় করছে বলেও তারা দাবি করেন।
এদিকে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও বিরোধিতার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান প্রতিনিধি জন কার্টিস এই বাজেটের সমালোচনা করে জানিয়েছেন, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করলে তিনি এই সামরিক অভিযানের অর্থায়নে সমর্থন দেবেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখার পক্ষে থাকলেও সাংবিধানিক অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত সামরিক ব্যয় সমর্থনযোগ্য নয়।