সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২৬
সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২৬

১৮ মাসের শিশুর শরীরে আগুনের ছ্যাঁকা দিলো ইসরায়েলি সেনারা

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

গণহত্যায় আন্তর্জাতিকভাবে অভিযুক্ত হওয়ার পরও আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি ইসরায়েলি সেনাদের। এখনও নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে এই দখলদাররা। গাজায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গুলি ও বোমাবর্ষণ এবং বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এছাড়া নানাভাবে সেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধ করে যাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীর নামে অবস্থান নেওয়া নিপীড়করা।

ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমনই একটি শিশু নির্যাতনের লোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশ হয়েছে।

ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ওসামা আলকাহলৌতের বরাত দিয়ে প্যালেস্টাইন টিভি জানিয়েছে, মধ্য গাজায় এক বছরের এক শিশুকে নির্যাতন করেছে ইসরায়েলি সেনারা। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার বাবাকে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করতে এই চাপ ঘৃণ্য অপরাধ করা হয়।

মধ্য গাজার আলমাঘাজি শরণার্থী শিবিরের কাছে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়া করিমনামে ওই শিশুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন সংবলিত একটি ভিডিও ফুটেজ প্রচার করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটির বাবা ওসামা আবু নাসের তার উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম ঘোড়াটির মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

জিনিসপত্র কিনতে সন্তানকে নিয়ে বের হলে তিনি তার বাড়ির কাছে গোলাগুলির মুখে পড়েন। ইসরায়েলি দখলদার সৈন্যরা তাকে তার ১৮ মাস বয়সী ছেলেকে মাটিতে রেখে পাশের একটি সামরিক চেকপোস্টের দিকে যেতে বাধ্য করে। সেখানে তাকে বিবস্ত্র করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

মেডিকেল রিপোর্টের তথ্যানুযায়ী, সৈন্যরা বাবার সামনেই শিশুটিকে নির্যাতন করে। এর মধ্যে ছিল সিগারেটের আগুন দিয়ে পা পুড়িয়ে দেওয়া, শরীরে সুঁই ফোটানো এবং পায়ে পেরেক ঢুকিয়ে দেওয়া।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, শিশুটির পায়ে সিগারেটের পোড়া দাগ এবং পেরেকের কারণে হওয়া ক্ষত চিহ্ন পাওয়া গেছে।

প্রায় ১০ ঘণ্টা পর শিশুটিকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং আলমাঘাজিতে রেড ক্রসের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে তার বাবা এখনো ইসরায়েলি হেফাজতে রয়েছেন। পরিবারটি বাবার মুক্তি নিশ্চিত করতে এবং তার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন

২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইল শত শত বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, যার কারণে অন্তত ৬৮০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ৮১৩ জন আহত হয়েছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই গণহত্যায় ইসরাইল এ পর্যন্ত ৭২ সহস্রাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ। ইসরাইলি হামলায় গাজার অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং পুরো জনসংখ্যা বাস্তুচ্যুত হয়েছে।সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More