জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, গণভোট একটি ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থা। দেশের জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি একটি বানচাল করুন। হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে দেশের শাসন ব্যবস্থা থাকবে না। বড় বড় রাজনৈতিক দল এখনও বুঝতে পারছে না।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে নগরীর দর্শনার পল্লীনিবাসে রংপুর–৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর লক্ষ্যে দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
জিএম কাদের বলেন, গণঅভ্যূত্থানকে অর্ন্তবর্তী সরকার মেটিকুলাস ডিজাইন বলেছিল। সমন্বয়করা বর্তমান সরকারের নিয়োগদাতা ও সরকার বর্তমান তাদের অভিভাবক। জামায়াতের একটি অঙ্গসংগঠন এনসিপি ও বাকি কিছু দল। সরকারের নিয়োগদাতাদের নিয়োগদাতা হলো জামায়াত। তিনজন মিলে এখন সরকারি দল। সরকারি দল দেশে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
তিনি বলেন, চাকুরি জীবনে ও মন্ত্রী থাকাকালীন আমি ব্যাপক সংস্কার করেছি। হুসেইন মুহম্মদ দেশের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ সংস্কারক হিসেবে রয়েছে। সংস্কারের বিপক্ষে আমরা নই, আমরা মনেকরছি যে প্রক্রিয়া সংস্কার এগিয়ে নেয়া হচ্ছে তার ভেতরে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।
গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার চাপিয়ে দেয়া এবং যে প্রক্রিয়ায় চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে, সাধারণ মানুষ তা কিছুই বুঝছে না। সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, লোভ–লালসা দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে আপনি হ্যাঁ এর পক্ষে জয়ী হলে সবকিছু পেয়ে যাবেন। এসব কথা সত্য নয়, অনেক ফাঁক ফোকর রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে দেশে প্যারালাল ফোর্স দাঁড়িয়ে যাবে। আমি আশংঙ্কা করছি যে বিপ্লবী সরকার গঠন করে তারা বলবে হ্যাঁ ভোটে জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। সংস কে আমাদের কথা মত চলতে হবে। সংস্কার মেনে চলতে হবে।
সংসদ ও নতুন সরকারকে বাধ্য করা হবে তাদের কথা মত চলতে। সংসদ ও নতুন সরকার কার্যকরভাবে তাদের কাজ করতে পারবে না। এরপর জুলাই সনদ পাস করানোর নামে তারা বছরের পর বছর বিপ্লবী সরকার ক্ষমতায় থেকে যাবে। সংসদ হতে শুধুমাত্র হুকুম মানার সংসদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ইয়াসির আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবুসহ অন্যরা।