হার্ট অ্যাটাক এখন আর শুধু বয়স্কদের সমস্যা নয়, বরং যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হৃদরোগের অন্যতম কারণ। হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা এবং তাৎক্ষণিক করণীয় জানা থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই জীবন বাঁচানো সম্ভব।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ
বুক ব্যথা
হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো বুকের মাঝখানে বা বাঁ পাশে তীব্র ব্যথা, যা কয়েক মিনিট স্থায়ী হতে পারে বা আসা–যাওয়া করতে পারে। এই ব্যথা অনেক সময় সংকোচন বা ভারী কিছু চাপ দেয়ার মতো অনুভূতি তৈরি করে।
শ্বাসকষ্ট
শ্বাসকষ্টের সমস্যাও এটি বোঝার অন্যতম উপায়। অনেক সময় ব্যথা ছাড়াই শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে, যা হার্ট অ্যাটাকের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।
শরীর বিভিন্ন অংশে ব্যথা
শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা ছড়িয়ে পড়াও হৃদরোগের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে বাঁ হাতে ব্যথা অনুভূত হওয়া, পাশাপাশি কাঁধ, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল বা পেটে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া গুরুতর লক্ষণ হতে পারে।
অতিরিক্ত ক্লান্তি
অনেক সময় ঠান্ডা ঘাম হয়, মাথা ঘোরা অনুভূত হয় এবং বমি বমি ভাব দেখা দেয়। হঠাৎ অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করাও বিশেষ লক্ষণ, যা নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা যেমন অনিয়মিত বা দ্রুত হার্টবিট হওয়াও হার্ট অ্যাটাকের একটি লক্ষণ হতে পারে।
যদি এসব লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসা নেয়া জরুরি। নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করুন বা অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন। যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হবে, তত বেশি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। চিকিৎসকের পরামর্শ থাকলে নিট্রোগ্লিসারিন ব্যবহার করা যেতে পারে এবং অ্যাসপিরিন সেবন করা রক্ত জমাট বাঁধা রোধে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের জন্য সুস্থ জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সচেতনতা এবং প্রাথমিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা হৃদরোগজনিত মৃত্যুর হার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নিজের ও পরিবারের সদস্যদের হৃদরোগ সম্পর্কে সচেতন করুন, কারণ একটু সতর্কতা অনেক প্রাণ বাঁচাতে পারে।
আল