রবিবার, এপ্রিল ৬, ২০২৫
রবিবার, এপ্রিল ৬, ২০২৫

হারিয়ে যেতে বসেছে ঝালকাঠির হাতে বুনা গামছা

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

সুতা রঙ্গের মূল্যবৃদ্ধি, আধুনিকতার ছোঁয়া ও পৃষ্ঠপোশকতার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে ঝালকাঠির নলছিটির হাতে বুনা ঐহিত্যবাহী তাঁতের গামছা শিল্প।

এক সময় ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রাম তাঁত পল্লী হিসেবই পরিচিত ছিলো। যে তাঁত পল্লি তাঁতের খটখট শব্দে রাতদিন মুখরিত ছিল, আজ সেখানে শোনশান নীরবতা। তবু বাপদাদার পেশা আঁকড়ে কোনোমতে টিকে আছে কয়েকটি পরিবার।

ওই এলাকাজুড়ে এক সময় প্রায় দুইশত তাঁতী পরিবার ছিল। স্থানীয় ভাষায় এদের কারিকর বলা হতো। সুতো কিনে বিভিন্ন রং মিশিয়ে নিজেদের তাঁতে সুনিপুণ হাতে গামছা তৈরি হত এই তাঁত পল্লিতে।স্থানীয় জেলা উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি হত সে সময়। সেদিন কেবলই হারানো দিন। তবে দুই তিনটি পরিবার এখনও গামছা তৈরি করে কোনোভাবে পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। কিন্তু নানা সংকটেও তারাও হারিয়ে যেতে বসেছে।

এখানকার হাতে বুনা গামছার ফিনিশিংও মান ভালো হওয়ায় মানুষ শরীরে ব্যবহারে আরামদায়ক হওয়ায় এর চাহিদা এক সময় ব্যাপক ছিলো। বর্তমানে বাজারে মোটামুটি চাহিদা থাকলেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে পারিশ্রমিকের তুলনায় লাভবান কম হওয়ায় এই তাঁত শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। একজন তাঁতি কারিকর প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি গামছা তৈরি করতে পারে, তাতে খরচ বাদ দিলে ২ থেকে ৩শত টাকা টাকা লাভ হয়ে থাকে ।বর্তমান বাজারে এই সামান্য টুকু লাভে পরিবার পরিজন নিয়ে তাঁতিদের বেঁচে থাকা অনেকটা কষ্টদায়ক। তাঁতিরা একটি গামছা তৈরি করে দুই থেকে আড়াইশত টাকা পাইকারি বিক্রি করে থাকে। যা বাজারে তিন থেকে সাড়ে তিনশত টাকা বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমানে সুতা ও রঙের দাম বৃদ্ধির কারণে তাঁত শিল্প হুমকির মুখে রয়েছে। সরকারি সহায়তা এবং পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটা ভালো ভাবে চালানো সম্ভব বলে মনে করে কারিকররা।

আল/দীপ্ত সংবাদ

আরও পড়ুন

সম্পাদক: এস এম আকাশ

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

স্বত্ব © ২০২৩ কাজী মিডিয়া লিমিটেড

Designed and Developed by Nusratech Pte Ltd.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More