আমাদের পূর্বসূরিরা অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক মুক্তির জন্য দেশ স্বাধীন করেছিলেন। কিন্তু আমরা তা থেকে পিছিয়ে ছিলাম। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের সামনে আবারও সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। এখন সময় এসেছে স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করার— বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ‘জনতা কালচারাল একাডেমি’র বার্ষিক পরীক্ষার সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় ‘আধুনিক শিল্পকলা একাডেমি‘ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, “ঢাকা বা ময়মনসিংহ জেলার আদলে কলমাকান্দা উপজেলায়ও শিল্পকলা একাডেমি গড়ে তোলা হবে এবং সেখানে জনতা কালচারাল একাডেমিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”
ডেপুটি স্পিকার বলেন, “একটি ফুলের তোড়া বানাতে ২–৩ হাজার টাকা খরচ হয়। আমি কৃষকের সন্তান, গরিব ঘরের সন্তান ছিলাম। আমি এ ধরনের অপচয় চাই না। এই টাকা দিয়ে একাডেমির জন্য একটি তবলা বা বাদ্যযন্ত্র কেনা যেত, কিংবা কোনো দুস্থ মানুষকে সাহায্য করা যেত।”
তিনি আরও বলেন, “আমার কাছে কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে খ্রিষ্টান বা কে হাজং– সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়। কে কোন দল বা মতের, সেটাও মুখ্য নয়। আমার কাছে বিবেচ্য হলো একজন মানুষের মেধা ও মনন। মেধা ও মননের ভিত্তিতেই সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে।”
‘জনতা কালচারাল একাডেমি‘ নির্বাহী পরিচালক আফরোজা বেগম শিমু সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক এনামুল হক তালুকদার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, কলমাকান্দা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন, উপজেলা বিএনপি সভাপতি এম এ খায়ের, প্রেসক্লাব সভাপতি শেখ শামীম ও সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল হক পাঠানসহ একাডেমির শিক্ষক–শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ফয়সাল /এসএ