পুণ্যভূমি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে বিশাল নির্বাচনি জনসভা থেকে প্রচারণা শুরু করবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
কিছুক্ষণ আগেই জনসভাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছেছেন তারেক রহমান। মঞ্চে তার আগমনের অপেক্ষায় উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা নিরবচ্ছিন্ন স্লোগান দিয়ে যাচ্ছেন।
এই জনসভা ঘিরে ইতোমধ্যে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে আলিয়া মাদরাসা মাঠে। ‘সিলেটের দামান’ খ্যাত তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখতে বুধবার রাত থেকেই শীত–কুয়াশা উপেক্ষা করেই বিভাগের চার জেলা—সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। ব্যানার, ফেস্টুন আর দলীয় স্লোগানে পুরো নগরী এখন উৎসবমুখর।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিএনপির জোটসঙ্গী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতাকর্মীরা বিশাল মিছিল নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আলিয়া মাদরাসা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় নেতাকর্মীরা চৌহাট্টা, রিকাবীবাজার ও দরগাহ গেট এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন।
জনসভার জন্য ৮০ ফুট লম্বা ও ৩০ ফুট চওড়া একটি বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। এবারের মঞ্চের বিশেষত্ব হলো—মঞ্চের সামনের একটি নির্দিষ্ট অংশ ‘জুলাই বিপ্লবে‘ শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের বসার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
সিলেটের এই জনসভা শেষ করে তারেক রহমান ঢাকার পথে রওনা হবেন। ফেরার পথে তিনি মৌলভীবাজারের শেরপুর এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে দুটি পৃথক নির্বাচনি পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদীতেও তার জনসভায় যোগ দেয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
এর আগে বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে তারেক রহমান আকাশপথে সিলেটে পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে মাজার পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে লাখো জনতা তাকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর কবর জিয়ারত করেন। এরপর তিনি দক্ষিণ সুরমার বিরাহিমপুরে তার শ্বশুরবাড়িতে যান।