বৈধ মোবাইল ফোন আমদানিতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ শুল্কছাড় ঘোষণার দিন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে হামলার ঘটনাকে দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিটিআরসি ভবন পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ফয়েজ আহমদ বলেন, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাস্তবায়নের মাধ্যমে নাগরিকদের সিম ও অনিবন্ধিত ডিভাইসকেন্দ্রিক অপরাধ, আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতি থেকে মুক্তির পথ তৈরি হয়েছে। অথচ এমন একটি ইতিবাচক উদ্যোগের দিনে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা দুঃখজনক।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একক খাত হিসেবে বৈধ মোবাইল আমদানিতে সর্বোচ্চ শুল্ক কমানো হয়েছে। প্রায় ৬০ শতাংশ শুল্ক কমানোকে স্বাগত জানানোর পরিবর্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
অবিক্রিত মোবাইল ফোনের বিষয়ে তিনি বলেন, ১ জানুয়ারির আগে যেসব ফোন দেশে এসেছে সেগুলো সচল হোক বা অবিক্রিত থাকুক—সব ফোনই বৈধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠান তাদের অবিক্রিত ফোনের আইএমইআই তালিকা দিয়েছে। অন্যদেরও দ্রুত এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিটিআরসি জানায়, এনইআইআর বাস্তবায়ন নিয়ে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি অব বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় ব্যবসায়ীদের চার দফা দাবি নিয়ে সমাধানের পথ বের করা হয়েছে।
প্রথম দাবিতে মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানির শুল্ক কমানোর কথা বলা হয়। সরকার এরই মধ্যে শুল্কহার ৬১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪৩ শতাংশ করেছে।
দ্বিতীয় দাবিতে আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে জানানো হয়—ভেন্ডর এনলিস্টমেন্ট দ্রুত দেওয়া হবে এবং অথরাইজড ডিলারের কাগজপত্র দিলেই আমদানি সম্ভব হবে।
তৃতীয় দাবিতে অবিক্রিত বা স্থিত হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়। বিটিআরসি জানিয়েছে, নামমাত্র শুল্ক দিয়ে কাগজ ছাড়াই এসব ফোন নেটওয়ার্কে যুক্ত করা যাবে।
চতুর্থ দাবিতে পুরোনো হ্যান্ডসেট আমদানির অনুমতির কথা বলা হলে বিটিআরসি জানায়, এটি তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয় এবং গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় পুরোনো হ্যান্ডসেট আমদানি ঝুঁকিপূর্ণ।